উন্নয়ন বাস্তবায়নে পাল্টে যেতে পারে অর্থবছরের সময় গণনা

আদিল সরকার

অর্থনীতি

দেশের অর্থবছরের বড় অংশজুড়েই থাকে বন্যা, বর্ষাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফলে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে তৈরি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। এ দিকে অধিকাংশ

2026-06-22T02:13:41+00:00
2026-06-22T02:14:56+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
উন্নয়ন বাস্তবায়নে পাল্টে যেতে পারে অর্থবছরের সময় গণনা
আদিল সরকার
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ২:১৩ এএম  আপডেট: ২২.০৬.২০২৬ ২:১৪ এএম
উন্নয়ন বাস্তবায়নে পাল্টে যেতে পারে অর্থবছরের সময় গণনা। সংগৃহীত ছবি
দেশের অর্থবছরের বড় অংশজুড়েই থাকে বন্যা, বর্ষাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফলে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে তৈরি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। এ দিকে অধিকাংশ সময় অর্থছাড় আসে অর্থবছরের শেষ দিকে, যখন বর্ষাকাল শুরু হয়। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হয় এবং ব্যয়ও বাড়ে। এ বাস্তবতায় বর্তমান জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর দাবি জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। 

সম্প্রতি বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এ দাবি জানান। এতে উন্নয়ন কাজ আরও সময়োপযোগী ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও মত দেন তিনি।

এদিকে সভায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বারবার সংশোধন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে মন্ত্রণালয়গুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সভায়।

গত ১৮ মে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি সভাপতি তারেক রহমান। এতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) শুধু বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যম নয়, বরং সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও হাতিয়ার। সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যেই এডিপিভুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ করতে হবে। কম গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিয়ে জনকল্যাণমূলক ও ফলপ্রসূ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রকল্পের অগ্রাধিকার, প্রত্যাশিত ফলাফল এবং সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করে প্রকল্প সময়মতো শেষ করতে হবে। অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে প্রকল্প পরিচালকদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিংয়ের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও নতুন প্রকল্প অনুমোদনে সুস্পষ্ট নীতিমালা, নির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং যথাযথ প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন অনুসরণের ওপর জোর দেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুন মাসে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয়বহুল ও অকার্যকর হয়ে পড়ে। সময়মতো কাজ শুরু করতে পারলে ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব। তিনি প্রকল্প সংশোধনের প্রবণতা কমিয়ে পরিকল্পনা পর্যায়ে আরও গভীর যাচাইয়ের আহ্বান জানান।


সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরুরি যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এতে পুরোনো ও বিকল যন্ত্রপাতি আরও অকার্যকর হয়ে পড়ে। জরুরি প্রকল্পের অনুমোদন দ্রুত ও সহজ করার দাবি জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ ও ব্যয় বৃদ্ধি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এনইসি সভায় সময়মতো প্রকল্প শেষ করা, প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অর্থবছর পরিবর্তনের মতো প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় সেটিই দেখার বিষয়। 

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী সময়ের আলোকে বলেন, অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের বিষয়টা পজিটিভ-নেগেটিভ দুটোই আছে। মার্চ-এপ্রিলে হলে ওই সময়টাতে বর্ষা থাকে, তখন উন্নয়ন কাজ শুরু করা একটু টাফ। 

তবে এই সময়ে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। ফলে বর্ষা শেষ হতে হতে উন্নয়ন কাজ শুরু হলে আর কাজের সমস্যা হবে না। তবে এই অর্থবছরের সময় পরিবর্তন করা মানে এই না যে, বর্ষা মৌসুমটা কোনোভাবে বাদ দেওয়া যাবে বছর থেকে। ঠিকই বছরের শেষের দিকে আবার বর্ষা হবে।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বড় বিষয় হলো সময়টা পরিবর্তন হলে আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে সকল ক্ষেত্রের ঐতিহাসিক সব তথ্য উলট-পালট হয়ে যাবে। কেননা আগের সব হিসাব জুন-জুলাই পর্যন্ত। সব মিলিয়ে আমদানি-রফতানিসহ অনেক হিসাবেরই পরিবর্তন হয়ে যাবে। এর আগেও সরকার একাধিকবার এটা পরিবর্তন করতে চেয়েছিল কিন্তু কার্যকর করতে পারেনি।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   উন্নয়ন বাস্তবায়ন  অর্থবছর  সময় গণনা  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: