গণঅভ্যুত্থানের চেতনা উপেক্ষায় সাফল্য ম্লান হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম চার মাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো নির্বাচনি ইশতেহারের কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ

2026-06-22T04:31:29+00:00
2026-06-22T04:31:29+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
সুজনের সংবাদ সম্মেলন
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা উপেক্ষায় সাফল্য ম্লান হতে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৩১ এএম 
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। সংগৃহীত ছবি
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম চার মাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো নির্বাচনি ইশতেহারের কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া। তবে একই সময়ে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ও দার্শনিক সারবস্তু অনুধাবনে অনীহা বা অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। 

সংগঠনটির মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি সরকারের অনেক দৃশ্যমান সাফল্যকেও ম্লান  করে দিতে পারে। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বর্তমান সরকারের চার মাস : প্রত্যাশা, অর্জন ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সুজনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রবন্ধে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজক সুজন। বৈঠক সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

সমাপনী বক্তব্যে বদিউল আলম বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুসরণ করলে জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত ২০২৯ সালে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালের সংবিধানের অনেক বিষয় কার্যত পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেই সময় একটি স্বৈরাচারী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার ও বাক-‌স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। তখন ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়ে। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই দলীয়করণ হয়।

তিনি আরও বলেন, এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। জনগণ একটি পরিবর্তিত ব্যবস্থা চেয়েছিল, যা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সংস্কারের উদ্দেশ্য হলো, পুরোনো পথে আর না হাঁটা- এমন মন্তব্য করে বদিউল আলম উপমা দিয়ে বলেন, কোনো গন্তব্যে পৌঁছাতে চাইলে সঠিক পথে যাত্রা করতে হয়। পুরোনো পথে হাঁটলে নতুন গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়; বরং পুরোনো গন্তব্যেই ফিরে যেতে হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ অচিরেই সংবিধানিক সংকটে পড়বে, আদালতে বহু রিট হবে। এর অন্যতম কারণ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার কারণে সরকার অন্য সংস্কারগুলোও করতে পারছে না। অথচ ক্ষমতাসীন দল তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলেছিল। 

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করীম বলেন, সরকার মনে হচ্ছে কোনো পিআর ফার্মের হয়ে কাজ করছে। অর্থাৎ যে বিষয়গুলো জনগণের সামনে দৃশ্যমান হবে বেছে বেছে শুধু সে উদ্যোগগুলোই বাস্তবায়ন করছে। যেমন ১০ হাজার মানুষকে কোনো একটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। দুই হাজার বা পাঁচ হাজার টাকার কার্ড মানুষের জন্য কতটুকু প্রলপ্রসূ হবে? এর পরিবর্তে দরকার কর্মসংস্থান বাড়ানো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, যেহেতু একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাই এই সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। তাই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান যতটা কমবে ততই সবার জন্য মঙ্গলজনক।

নাগরিক কোয়ালিশনের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, মনে হচ্ছে প্রথম তিন মাস সরকার কথা বলতে দিয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। আমি মনে করি, এটি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা। দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে বলে মনে হয় না। কিন্তু দুর্নীতি হ্রাসের বিষয়টাকে স্থায়ী রূপ দিতে হবে।

বৈঠকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। প্রবন্ধে বলা হয়, সরকারের পারফরম্যান্স বিচার করতে হবে তিনটি প্রশ্নে। প্রথমত সরকার কি জুলাই সনদের রাজনৈতিক ও নৈতিক তাৎপর্য স্বীকার করেছে? দ্বিতীয়ত সনদ বাস্তবায়নের জন্য কোনো সময়সীমা, অগ্রাধিকার তালিকা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া তৈরি করেছে কি? তৃতীয়ত সরকারের কর্মকাণ্ড কি সনদের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাকি ক্ষমতা গ্রহণের পর পুরোনো রাজনৈতিক আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে?

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ নিতে এখনও সরকারকে দেখা যায়নি। জুলাই সনদ বা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন কেবল আনুষ্ঠানিক ভাষণ বা রাজনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। এটি 
উদ্বেগের।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   গণঅভ্যুত্থান  চেতনা  উপেক্ষা  সাফল্য ম্লান  সুজন 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: