ফিফা বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমার্ধেই টানটান উত্তেজনা ও অবিশ্বাস্য সব রেকর্ডের সাক্ষী হলো ফুটবলবিশ্ব। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়েছে উরুগুয়ে।
ফ্লোরিডার মায়ামি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের ঝড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।
ম্যাচের ২১ মিনিটে ৩০ গজ দূরত্বের এক চোখধাঁধানো সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল করে কেপ ভার্দেকে অবিশ্বাস্য লিড এনে দিয়েছিলেন দলটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কেভিন পিনা। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অংশ নেওয়া দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই এই ঐতিহাসিক প্রথম গোলের দেখা পায় তারা।
এই গোলের মাধ্যমে একটি অনন্য রেকর্ড গড়েন কেভিন পিনা; আফ্রিকার তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল করার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
অন্যদিকে, এই গোলের মাধ্যমে উরুগুয়েও এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মুখোমুখি হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল হজম করল উরুগুয়ে। এর আগে যেকোনো বড় টুর্নামেন্টে উরুগুয়ে সর্বশেষ সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল হজম করেছিল দীর্ঘ ১৯ বছর আগে, ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে।
তবে কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক উদ্যাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি উরুগুয়ের আক্রমণভাগ। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে বক্সে উড়ে আসা একটি বলে দুই দলের খেলোয়াড়রা হেড করার চেষ্টা করলেও কেউ বলের নাগাল পাননি। বলটি কেপ ভার্দের গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে অত্যন্ত ক্ষিপ্রতায় ফিরতি বল জালে পাঠান উরুগুয়ের মিডফিল্ডার মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো (ম্যাক্সি আরাউজো), যার ফলে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের (ইঞ্জুরি টাইম) ৬ষ্ঠ মিনিটে আসে উরুগুয়ের নাটকীয় দ্বিতীয় গোল।
সতীর্থের চমৎকার এক হেড থেকে বল পেয়ে আলতো পায়ের টোকায় কেপ ভার্দের জাল কাঁপান উরুগুয়ের আরেক মিডফিল্ডার আগুস্তিন কানোবিও। এই জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর লিড নিয়ে প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় উরুগুয়ে।
সময়ের আলো/জেডি