বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ইরান। তবে মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে এখন আলোচনায় লস অ্যাঞ্জেলেসের ড্রেসিংরুমে ইরানি ফুটবলারদের রেখে যাওয়া একটি আবেগঘন চিঠি। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের আবহের মধ্যে চিঠিটি ফুটবলবিশ্বে নতুন এক আলোড়ন তৈরি করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মিরর’ জানিয়েছে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইরানের ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা একটি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মিনাবের একটি স্কুলে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ১৬৮ জনের প্রতি ইঙ্গিত করা করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু।
চিঠিতে ইরানি ফুটবলাররা লিখেছেন, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান; ইরানের আত্মা আজও জীবন্ত ও অটল। আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এবং মর্যাদা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ, লস অ্যাঞ্জেলেস।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ধন্যবাদ প্রত্যেক ইরানিকে, যারা এই ১৮০ মিনিটজুড়ে (লস অ্যাঞ্জেলেসে খেলা দুটি ম্যাচ) ইরানের জন্য তাঁদের হৃদয়, কণ্ঠ ও আত্মা উজাড় করে দিয়েছেন। বিশ্বের সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক।’
চিঠির শেষে ‘#168’ এবং ‘#Minab’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে নিহতদের স্মরণ করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর সময়ও খেলোয়াড়দের ব্লেজারে ‘#168’ লেখা বিশেষ পিন দেখা গিয়েছিল।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে ‘আবারও কঠোরভাবে আঘাত করার’ হুমকি দেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান।
শুধু মাঠের বাইরেই নয়, টুর্নামেন্টজুড়েই ইরান দল ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের মধ্যে অস্থিরতা চলছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন দাবি করেন, আইআরজিসি-এর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা এক ব্যক্তি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির ছদ্মবেশে দলে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, যাকে পরে আটকে দেওয়া হয়। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন এই অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে বলেছেন, যাতায়াতজনিত ঝামেলার কারণে তাদের অনুশীলন করার সময় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছে। ম্যাচ শেষ হতেই তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে এবং স্টেডিয়ামের কাছের হোটেলের বদলে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থিত বেসক্যাম্পে গিয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে ফুটবলারদের প্রস্তুতি ও বিশ্রামে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
সময়ের আলো/জেডি