নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। বড়পর্দার পাশাপাশি অভিনয় করছেন ছোটপর্দাতেও। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রচারে এসেছে সুনেরাহ অভিনীত নাটক ‘ঝরা বকুল’। রাফাত মজুমদার রিংকুর পরিচালিত নাটকটি দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে এই নাটকের সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনীত মনিরা চরিত্রটি বেশ প্রশংসা পাচ্ছে।
নাটকটি আমাদের সমাজের সেসব অবহেলিত মেয়েদের গল্প বলেছে, যারা পরিবারের জন্য নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের জীবন উজাড় করে দেন। গল্পে মনিরা একটি গরিব পরিবারের বড় মেয়ে। সবার দায়িত্ব নিতে গিয়ে নিজের বিয়েও করা হয়ে ওঠেনি তার। এমনকি মনিরা অন্য পরিবারে চলে গেলে কে সংসার দেখবে এই ভয়ে তার মা নিজেও তাকে বিয়ের জন্য বলেন না। ঘটনাক্রমে কবিরের (ইয়াশ রোহান) সঙ্গে মনিরার দেখা ও পরিচয় হয়। একসময় কবির মনিরাকে বিয়ে করতে চান। এভাবেই এগিয়ে যায় ‘ঝরা বকুল’র গল্প।
নাটকটির মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, জানি না মানুষ সুনেরাহকে নিয়ে এত খারাপ মন্তব্য কেন করে। ওর কণ্ঠ, ওর চেহারা সবই অন্যরকম। আর কেন জানি সব ধরনের অভিনয়ে মানিয়ে যায়। বড়লোকের মেয়ে, গরিবের বাড়ির মেয়ে, অহংকারী নিরহংকারী, সব চরিত্রে।
রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে ‘ঝরা বকুল’ নাটকটি দেখা যাচ্ছে। এটি প্রযোজনা করেছেন জামাল হোসেন। নাটকটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রম্য, রোমান্টিক, অতি আর্ট দেখতে দেখতে দর্শক হয়রান। এসবে গল্প আর বাস্তবতার অভাব থাকে। হাঁপিয়ে ওঠা দর্শক এখন একটা পরিবারের সুখ-দুঃখ, স্ট্রাগল ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বাস্তবতা খুঁজে পান।
নির্মাতা রিংকু বলেন, আমি সবসময় পারিবারিক গল্প প্রধান্য দিয়ে আসছি। এই নাটকেও দর্শক সেটি দেখছেন। মানুষ নাটকে যখন নিজেদের খুঁজে পান তখন সেটি সহজে গ্রহণ করেন। এই কারণে হয়তো ঝরা বকুল সবার ভালো লাগছে।
এই নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন গুণী অভিনেত্রী ডলি জহুর, রোজী সিদ্দিকী ও গোলাম ফরিদা ছন্দাসহ আরও অনেকে।
‘ঝরা বকুল’ ছাড়াও সম্প্রতি প্রচারে এসেছে ইয়াশ-সুনেরাহর জুটির নাটক ‘কেউ না জানুক’। রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্পের এই নাটকটি পরিচালনা করেছন শাহ মোহাম্মদ রাকিব।
প্রসঙ্গত, ন’ডরাই সিনেমা দিয়েই ২০১৯ সালে বড়পর্দায় অভিষেক হয় সুনেরাহর। সিনেমাটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও জেতেন তিনি। এরপর ওটিটি, সিনেমা ও টিভি নাটকে নিয়মিত কাজ করছেন এই অভিনেত্রী।
সময়ের আলো / আরবিএন