পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিশেষ আমন্ত্রণে এক রাষ্ট্রীয় সফরে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) তারা পৃথক দুটি ফ্লাইটে পাকিস্তানে পৌঁছান বলে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরান থেকে সরাসরি পাকিস্তানের ফেডারেল রাজধানীতে অবতরণ করেন। অন্যদিকে, ওমানে পূর্বনির্ধারিত কূটনৈতিক কার্যক্রম শেষ করে সেখান থেকে পাকিস্তানে এসে পৌঁছান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ও পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি। এছাড়া ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমীরি মোগাদ্দাম ও বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, নিজ দেশের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এপিপি জানিয়েছে, নুর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানের প্রেসিডেন্টকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয় এবং পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো তার সম্মানে আকাশে আকর্ষণীয় ফ্লাইপাস্ট প্রদর্শন করে। এ সময় বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে আসা শিশুদের স্লোগানের জবাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে মার্কিন-ইরান পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও প্রেসিডেন্টের এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান পাকিস্তানে নামার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের সঙ্গে একটি প্রাথমিক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এর আগে বিমানঘাঁটিতে পৌঁছালে আরাঘচিকেও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করবে উভয়পক্ষ
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সফরকালে মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন। এছাড়া সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশহাক দারও ইরানি অতিথির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
পাক পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি মাসুদ পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। এই সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুরো চিত্র পুনর্মূল্যায়ন করার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও গ্যাস পাইপলাইন, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন পথ অন্বেষণ করবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের পর এই সফরটি দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাক পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আগামী দিনে এই সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার জন্য পাকিস্তান ও ইরানের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটাবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই অগ্রগতির জন্য দুই দেশের সাধারণ আকাঙ্ক্ষাকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরবে।”
সময়ের আলো/জেডি