অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সব ধরনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করতে একটি পক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে পশ্চিম তীরের বর্তমান বাস্তবতাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ বলেন, ‘পশ্চিম তীরের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। সেখানে এটি নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে যেন ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যতে কখনোই তাদের নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিন সংকটের একটি ন্যায্য ও স্থায়ী সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে কখনোই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘের প্রস্তাবনার আলোকে দ্বি-রাষ্ট্র নীতি বা স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে মস্কোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ যদি এভাবে রুদ্ধ করে রাখা হয়, তবে এই অঞ্চলটি আগামী বহু বছর ধরে চরমপন্থা ও চরম অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে নিমজ্জিত থাকবে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গত প্রায় তিন বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে ভূমধ্যসাগরের তীরের এই জনপদটি এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে সেখানে প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজা সংকটের সমান্তরালে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের আগ্রাসী নীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চলতি মাসেই ইসরায়েল সরকার হেবরনের কেন্দ্রস্থলে একটি ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে।
ইসরায়েলের কট্টরপন্থী ইহুদি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই পদক্ষেপকে ‘মাঠের বাস্তবতা’ এবং ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলের এসব একতরফা পদক্ষেপ একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে দিন দিন আরও দুর্বল ও অসম্ভব করে তুলছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, আরব বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও অভিযোগ করেছে যে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের প্রশাসনিক ও ভূমি-সংক্রান্ত নতুন নীতিমালাগুলো মূলত এই অঞ্চলটিকে ইসরায়েলের সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংযুক্তকরণের একটি গোপন প্রক্রিয়া। তাদের আশঙ্কা, এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক (টু-স্টেট সলিউশন) সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন, ভূমি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে অন্যতম প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই মূল দাবিকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক চাপ এবং পরাশক্তিগুলোর মধ্যে বিতর্ক আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।
সময়ের আলো/জেডি