‘আমি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন,

2026-08-09T19:08:31+00:00
2026-08-09T19:08:31+00:00
 
  রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬,
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘আমি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে না’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৮ পিএম 
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, হামাস যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের সব অস্ত্র সমর্পণ না করবে, ততক্ষণ গাজার দখলকৃত অংশ থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে না।

নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, ‘যতক্ষণ আমি প্রধানমন্ত্রী, গাজা বা পশ্চিমতীরে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হবে না।’

রোববার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল গাজা বোর্ড অব পিসের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে।

তিনি বলেন, ‘হামাস যতক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে অস্ত্র সমর্পণ না করবে, আমাদের সেনারা সেখান থেকে সরবে না। এবং আমরা আমাদের সেনা ও জনগণের ওপর হুমকি প্রতিহত করে যাব।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘হামাসকে নিরস্ত্র করার’ অর্থ হলো তাদের হাতে থাকা ভারী, কম ভারী—সব ধরনের অস্ত্র সরিয়ে ফেলা। এটি কোনো নামমাত্র নিরস্ত্রীকরণ হলে চলবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা মার্কিনিদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করছি। তাদের কিছু আইডিয়া আছে, যেগুলোর কিছু আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য, কিছু গ্রহণযোগ্য নয়। আর আমরা জানি সেগুলো নিয়ে কিভাবে দাঁড়াতে হয়।’

এদিকে, গত সপ্তাহে হামাস প্রথমবারের মতো জানায়, তারা তাদের ভারী অস্ত্র সমর্পণ করবে। তবে এজন্য আগে ইসরায়েলকে তাদের সেনাদের গাজা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ অঞ্চল ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা

সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা নিয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন। তিনি এটিকে হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার জন্য একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

ট্রাম্পের এই উদ্যোগের আগে থেকেই গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কয়েক মাস আগে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। সর্বশেষ পরিকল্পনাটির লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে যাওয়া এবং গাজায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ তৈরি করা।

তবে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল গাজায় হামলা বন্ধ করে সেনাদের ইয়েলো লাইন পর্যন্ত সরিয়ে নিলে তারা চুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করবে। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে এই ইয়েলো লাইনকে ইসরায়েলি সেনাদের নির্ধারিত অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

হামাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে পিছু না হটলে শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে যাওয়া কঠিন হবে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর শর্ত হলো, হামাসকে আগে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে। ফলে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে।


গাজার অর্ধেকের বেশি ইসরায়েলের দখলে

বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ করে গাজার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চললেও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি এবং হামাসের অস্ত্রের বিষয়টি সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

ইসরায়েলের বক্তব্য, হামাস অস্ত্র রেখে দিলে ভবিষ্যতে ইসরায়েলি নাগরিক ও সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার ঝুঁকি থাকবে। এ কারণে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে তারা শান্তি প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরায়েলি সেনাদের গাজা থেকে প্রত্যাহার এবং হামলা বন্ধ না হলে তারা কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গাজা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নেতানিয়াহুর সর্বশেষ বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে, ইসরায়েল হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি নয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার কথা জানিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধান নিয়েও ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।

ফলে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আলোচনার পথ এখনো কঠিন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   নেতানিয়াহু  ফিলিস্তিন রাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: