গরমের তীব্রতায় জানালার বাইরে ঝুলছে পর্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেদারল্যান্ডসজুড়ে এবার এমন গরম পড়েছে যেন মনে হচ্ছে শহরের প্রতিটি ইট-কাঠ গরমে জ্বলছে। অথচ এখানকার বাড়িঘর তৈরি হয়েছিল পুরোপুরি ভিন্ন

2026-06-24T03:24:54+00:00
2026-06-24T03:26:00+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
গরমের তীব্রতায় জানালার বাইরে ঝুলছে পর্দা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৩:২৪ এএম  আপডেট: ২৪.০৬.২০২৬ ৩:২৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নেদারল্যান্ডসজুড়ে এবার এমন গরম পড়েছে যেন মনে হচ্ছে শহরের প্রতিটি ইট-কাঠ গরমে জ্বলছে। অথচ এখানকার বাড়িঘর তৈরি হয়েছিল পুরোপুরি ভিন্ন আবহাওয়ার কথা ভেবে। কারণ এখানে বছরের বেশিরভাগ সময় থাকে শীত আর স্যাঁতসেঁতে বাতাস। 

তাই এবারের প্রচণ্ড তাপ সামলাতে এখন শহরবাসীকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম ঠেকানোর জন্য দামি যন্ত্রপাতি বা জটিল পদ্ধতি লাগছে না। সহজ কিছু কাজেই অনেকটা স্বস্তি মিলছে। তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, জানালার বাইরে পর্দা বা চাদর ঝুলিয়ে দেওয়া। দ্য গার্ডিয়ান।

শহরের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের তাপপ্রবাহ সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এলিন কুলেন গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই পরামর্শ দেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সে পোস্টে তিনি বলেন, আমাদের বাড়িতে তো বড় বড় কাচের জানালা থাকে। আগে শীতকালের কথা ভেবেই এমন করা হতো যাতে রোদ আর উষ্ণতা ঘরের ভেতর ভালোভাবে ঢুকতে পারে। কিন্তু এখন গরমের সময় সেই একই জানালা হয়ে উঠছে তাপ ঢোকার মূল পথ।

তাই তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, অস্থায়ীভাবে কাঠ বা দড়ি দিয়ে জানালার বাইরে কাপড় বা চাদর টানিয়ে দিন। সূর্যের আলো যদি বাইরেই আটকে যায়, তবে ঘরের ভেতর আর এতটা তাপ পৌঁছাবেই না। কারণ কোনো ব্যবস্থা না নিলে কিন্তু বিপদ বাড়ছে। কুলেনের হিসাব বলছে, শুধু আমস্টারডাম শহরেই প্রতি বছর প্রায় ১১০ জন মানুষ গরমের কারণে মারা যান। আর আগামী দিনে যদি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এই সংখ্যা বেড়ে ৬শরও বেশি হয়ে যেতে পারে।

এই ধারণাটা তার মাথায় এসেছে নিজের চোখে দেখা দুটি ঘটনা থেকে। তিনি আমস্টারডামের উত্তরাঞ্চলে বাস করেন, সেখানকার অনেক বাড়িতেই দেখেছেন বাসিন্দারা জানালার বাইরে চাদর ঝুলিয়ে রাখেন। সম্প্রতি বার্সেলোনা শহরে গিয়েও দেখেছেন, সেখানকার মানুষ বারান্দার বাইরে পর্দা লাগিয়ে ঘরকে ঠান্ডা রাখেন। এসব দেখেই তিনি ভাবলেন, এমন সহজ কাজ কেন আমরা করব না?

বিজ্ঞানের কথা বললেও এই পদ্ধতি সঠিক, নিশ্চিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। হেরিয়ট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক বার্ট ব্লকেন বলছেন, এটি শুধু বুদ্ধির খেলা নয়, পদার্থবিদ্যার সাধারণ নিয়ম। রোদ যদি জানালায় লাগতেই না পারে, তবে তাপ ঘরে ঢুকবে কীভাবে?

তিনি আরও বলেন, আমরা দিনের বেশিরভাগ সময়ই ঘরের ভেতর কাটাই; কাজ করি, বিশ্রাম নিই বা ঘুমাই। তাই ঘর ঠান্ডা রাখা খুব জরুরি। কিন্তু শুধু শক্তি খরচ করে এয়ার কন্ডিশনার চালানোই একমাত্র উপায় নয়। প্রাচীনকালের মানুষও তা জানতেন। মিসরীয়, গ্রিক বা রোমানরা হাজার হাজার বছর আগেই বাড়ির বাইরে ছায়া তৈরি করে ঘর ঠান্ডা রাখতেন। আমরা শুধু সেই শিক্ষাটাই ভুলে বসে আছি!

শুধু বাড়ির ভেতর নয়, পুরো শহরকেই গরম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। নেদারল্যান্ডসের সরকার ইতিমধ্যে পুরো দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকল্পনা চালু করেছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ বা দুর্বল মানুষদের যাতে সুরক্ষা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গবেষকরাও নানা পরীক্ষা চালাচ্ছেন। রাস্তার পাকা মেঝেকে কম গরম করার উপায় খুঁজছেন, কৃত্রিম গাছ লাগানো, ছায়া তৈরি করার ব্যবস্থা করা এমনকি মাটির ওপর ছায়া দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করার চিন্তাও করছেন যাতে পথচারীরা কিছুটা স্বস্তি পান। জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের তাপপ্রবাহ পরিকল্পনার সমন্বয়কারী ভার্নার হ্যাগেনস বলছেন, কাজটা তিনভাবে করতে হবে। প্রথমত মানুষকে সচেতন করতে হবে। 

দ্বিতীয়ত বাড়িঘরকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে এবং তৃতীয়ত পুরো শহরের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে। যদি মানুষ সামান্য সতর্ক হয়, তবেই গরমের কারণে মৃত্যু বা অসুস্থতার সংখ্যা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। 

সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ বাসিন্দা মনে করেন, গরমের সময় তাদের ঘর অসহনীয়ভাবে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। তবে পাঁচজনের মধ্যে চারজন মানুষ নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন ঘর ঠান্ডা রাখার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবের চেয়েও বড় সমাধান হলো গাছপালা। বাড়ির ছাদ বা দেয়ালে গাছ লাগানো, শহরজুড়ে পার্ক ও সবুজ জায়গা বাড়ানো এগুলোই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি।


আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেরুন ক্লাক বলছেন, কেউ বলবেন, জায়গা নেই বা টাকা নেই। কিন্তু গাছ লাগালে শুধু গরমই কমে না, শহরও সুন্দর হয়, প্রকৃতির ভারসাম্যও ঠিক থাকে। ছায়ায় বসার জায়গা পেলে মানুষের মনও ভালো থাকে। এমনকি অর্থনৈতিক হিসেবেও এই কাজ লাভজনক। ব্যাংক কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদ সান্দ্রা ফ্লিপেন বলছেন, গরমের কারণে এক রাত ভালো ঘুম না হলে একজন মানুষের কাজের ক্ষমতা কমে যায়। যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২০০ ইউরো।

কল্পনা করুন, একটি রাস্তার ১০০ জন বাসিন্দা যদি টানা তিন রাত এভাবে কষ্ট পান, তবে মোট ক্ষতি কত? সেই তুলনায় শহরজুড়ে গাছ লাগানো বা ছায়া তৈরি করার খরচ তো কিছুই না!

তাই আমস্টারডামের মানুষ এখন নতুন করে শিখছেন গরমের সঙ্গে লড়াই করতে গেলে প্রয়োজন বুদ্ধি, সচেতনতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বাঁচার কৌশল। আর সেই কাজটার শুরু হচ্ছে ঠিক ঘরের জানালার বাইরে এক টুকরো কাপড় বা পর্দা ঝুলিয়ে!

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   গরম  পর্দা  শহর 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: