গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির নির্মাণ স্থগিত নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানতে পেরেছি যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবতা ও তাদের ধর্মীয় ছবির অবমাননার কারণে বাংলাদেশে বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ সরকার পলাশবাড়ীর সেই উগ্রপন্থিদের কঠোরভাবে দমন করবে এবং সেখানে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
ভারতের পক্ষ থেকে যখন এই কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তার আগের দিন সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
উক্ত বৈঠকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্রের রামমন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তীর দেশবিরোধী বক্তব্যের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের সরকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় পুরোপুরি বিশ্বাসী। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিজ নিজ জায়গা থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।”
ধর্মীয় সুড়সুড়ি বা উসকানি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন যেকোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে। দেশে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।”
উল্লেখ্য, পলাশবাড়ীতে বৃহৎ রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র স্থানীয় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিগ্রহ অপসারণের দাবির মুখে প্রশাসন ও মন্দির কমিটি সাময়িকভাবে কাজ স্থগিত করে। তবে পরবর্তীতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা, ফেনী ও বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
সময়ের আলো/জেডি