ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা এর আগে দেখা যায়নি।
১৯৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের ব্যবস্থা নিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথ, জ্বালানি ও আর্থিক খাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি নৌ অবরোধও শুরু করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর থেকে ১ হাজারের বেশি ব্যক্তি, জাহাজ ও বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারে।
চীনের ‘টিপট’ তেল শোধনাগারে নিষেধাজ্ঞা
চীনের ছোট ও স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলোকে ‘টিপট রিফাইনারি’ বলা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের তেল আমদানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপথে রফতানি করা ইরানি তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র এসব চীনা শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে ইরানের তেল বিক্রিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
চীনা ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা
ইরানের তেল বিক্রির অর্থ লেনদেন এবং অস্ত্র কেনার অর্থায়নে সহযোগিতার অভিযোগে এরই মধ্যে চীন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বড় চীনা ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে ইরানের আর্থিক লেনদেনে আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট
ইরানের তেল বিক্রি ও যুদ্ধের অর্থায়নে সহযোগিতা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে বিশেষজ্ঞরা একে অনেকটা ‘হ্যাক-অ্যা-মোল’ কৌশল হিসেবে দেখছেন। কারণ একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে ইরান নতুন নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে একই কার্যক্রম চালাতে পারে।
স্থলপথে অবরোধ
ইরানের ওপর স্থল অবরোধ আরোপের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। এর জন্য ইরানের প্রতিবেশী দেশ— ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অবরোধ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। একই সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে ইরানের সাধারণ মানুষের ওপরও বড় চাপ পড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এ ধরনের শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত প্রশাসনের জন্য বাধা তৈরি করেছে।
এদিকে মার্কিন সিনেট সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিস্তৃত বিল পাস করেছে, যেখানে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তাকারী দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্প পেতে পারেন।
সূত্র : রয়টার্স
সময়ের আলো/ইউএমএইচ