ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা লোকজনকে উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস দ্বীপের পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর উৎপত্তিস্থল ছিল এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর প্রায় ৩৪১টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম প্রাণঘাতী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী বেঞ্জামিন পলুস অক্টাভিয়ানুস রোববার জানান, ভূমিকম্পে ৩৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ৭৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি সিক্কা রিজেন্সিতে ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ ঘর ছেড়েছেন অথবা বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছেন। তাদের অনেকে একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আশ্রয় নিয়েছেন।
মাউমেরে বন্দর শহরে ধসে পড়া বাড়ির সামনে ত্রিপল টানিয়ে অনেকে রাত কাটিয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালের বাইরেও অস্থায়ী তাঁবুতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপিবির প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুহারিয়ান্তো জানান, ভূমিকম্পে অন্তত ১৫৭টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও প্রায় ২০০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের নাজেও রিজেন্সিতে প্রায় ২ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতায় তিনটি হেলিকপ্টার ও একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে।
দেশটির মন্ত্রিপরিষদ সচিব টেডি ইন্দ্রা উইজায়া জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেরতামিনার তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ২০টি পেট্রল স্টেশন এখনো বন্ধ রয়েছে।
ভূমিকম্পের পর জারি করা সুনামি সতর্কতা পরে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে পরাঘাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সমুদ্রতীর ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। এর আগে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে একই উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ফ্লোরেস দ্বীপে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
সময়ের আলো/কেএইচ