যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে পৃথক দুটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় এক কিশোরসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পরে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও গুলিতে নিহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী বেঁচে আছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে ডেট্রয়েট থেকে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর, ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ৪০ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। একই ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
মিশিগান স্টেট পুলিশের (এমএসপি) কর্মকর্তারা জানান, হামলার পর সন্দেহভাজন ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর তাকে ধরতে মিসককি কাউন্টিতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়।
পরে একটি দ্বিতীয় বাড়িতে ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর একটি জঙ্গলে হিকম্যানের সঙ্গে ২৯ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহও পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, পাঁচ ভুক্তভোগীই গুলিতে নিহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, হিকম্যানও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মিশিগান স্টেট পুলিশের লেফটেন্যান্ট অ্যাশলি মিলার বলেন, ‘এই ঘটনা পুরো সম্প্রদায়ের জন্য হৃদয়বিদারক এবং তদন্তকারীদের জন্যও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।’ তদন্ত এখনো চলছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ শনিবার নিহতদের বয়স ও লিঙ্গের তথ্য প্রকাশ করলেও তাঁরা পরস্পরের আত্মীয় ছিলেন কি না বা সন্দেহভাজনের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা জানায়নি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় হিকম্যান দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একই মামলায় গুরুতর হামলা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পরে খারিজ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা টিম পেনরোজ জানান, ৫৩ বছর বয়সী ব্যক্তির মরদেহ যে বাড়িতে পাওয়া যায়, সেখানে হিকম্যান থাকতেন। তিনি গুলির শব্দ শুনেছিলেন। তবে গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করায় প্রথমে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। পেনরোজ আরও বলেন, হিকম্যান প্রায়ই তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে হয়রানি করতেন।
মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার শুক্রবার ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান। নিহতদের পরিবার এবং মিসককি কাউন্টির বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
সময়ের আলো/কেএইচ