শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা।

2026-08-16T13:09:08+00:00
2026-08-16T13:09:08+00:00
 
  রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৯ পিএম 
শেখ হাসিনা। সংগৃহীত ছবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে না। তবে এ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোবে। সেখানে বাংলাদেশের করা অভিযোগগুলো ভারতের আইন অনুযায়ীও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না, তা যাচাই করা হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে পাঠানো অনুরোধ এরই মধ্যে ভারত পেয়েছে। ওই অনুরোধের সঙ্গে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর আগে জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন হাসিনা

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, নয়াদিল্লির একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দলটির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্য দাবি করেছেন।

গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। তিনি ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। বাংলাদেশ এই রায়ের ভিত্তিতেই তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইনি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় নিয়েও বিভিন্ন আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। বিশেষ করে রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছে— এ বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় আলোচনায় আসতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বিচারিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনার মতো কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধানও রয়েছে।

ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও এ বিষয়ে আইনি কাঠামো রয়েছে। কোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাওয়ার পর ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে অনুসন্ধানী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে মনে হলে তিনি প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও, ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত বিষয়টি দেশটির আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নিষ্পত্তি হবে।

সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   শেখ হাসিনা  বাংলাদেশ  প্রত্যর্পণ  সিদ্ধান্ত  ভারতের আদালত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: