রাশিয়ার রাজধানী মস্কো অঞ্চলে রাতভর প্রায় ৬০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। রুশ বাহিনীও ইউক্রেনে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ম্যাক্স প্ল্যাটফর্মে সোবিয়ানিন জানান, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মস্কো অঞ্চলের দিকে ৬০০টি ড্রোন উড়ে আসে। এর মধ্যে ২০১টি মস্কো অঞ্চলের আকাশসীমায় ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে, এক পোস্টে মেয়র জানান, মস্কোর রিং রোড (এমকেএডি) এলাকায় তিনজন আহত হয়েছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলেও রাতভর হামলায় তিনজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রোস্তভের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানান, রুশ বাহিনী ওই অঞ্চলের তিনটি শহর ও নয়টি জেলায় ১৫০টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।
হামলায় কামেনস্কি জেলায় আবাসিক ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কামেনস্ক-শাখতিনস্কি শহরের কয়েকটি ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি আবাসিক ভবন ও শহরের রেলস্টেশনের জানালাও ভেঙে গেছে বলে জানান গভর্নর।
এদিকে, রোববার ভোরে কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে ইউক্রেনের রাজধানীর অন্তত দুটি জেলায় আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো।
টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে ক্লিচকো বলেন, উত্তরের একটি উপশহরে ধসে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে আগুন লেগেছে। বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লেগেছে এবং শহরের কেন্দ্রের ঠিক দক্ষিণে আরেকটি এলাকায় আগুন লেগেছে।
এর আগে, শনিবার রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি শিল্প স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইউক্রেন।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল প্রগ্রেস সেন্টার। এটি মূলত রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের অন্যতম প্রধান স্থাপনা এবং সামরিক মহাকাশ ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তিনি দাবি করেন, নিজেদের তৈরি ফ্লামিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সীমান্ত থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরের এ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরের সাভাসলেইকা বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে কিয়েভ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। এসব হামলায় সামরিক ও শিল্প স্থাপনার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরের ই-কমার্স গুদাম লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
পাল্টা হামলা চালিয়েছে রাশিয়াও। ইউক্রেনের নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের মারহানেতস শহরে একটি আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। জাপোরিঝঝিয়ায়ও রুশ হামলায়ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ওডেসা অঞ্চলে একটি জুতার কারখানার গুদাম ও ক্যান্টিনে হামলার পর আগুন ধরে যায়।
উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেনে সম্ভাব্য বড় আকারের মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে মস্কো। তুরস্কে থাকা মার্কিন অস্ত্রের একটি বড় মজুত কিয়েভে পাঠানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, এমন কোনো অস্ত্র হস্তান্তর হলে দুই দেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।