গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য হামাসের রাজনৈতিক নেতা ও প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া মিশরের রাজধানী কায়রোর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনারের মধ্যপ্রাচ্য সফরের আগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
হামাসের সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি ও আনাদোলু জানিয়েছে, রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে কায়রোতে মিশরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে আল-হাইয়ার।
হামাসের নেতৃত্ব গ্রহণের পর এটিই মিশরে আল-হাইয়ার প্রথম সফর।
আগামী সপ্তাহে ট্রাম্পের জামাতা ও দূত জ্যারেড কুশনার ইসরায়েল ও মিশর সফর করবেন। গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মতপার্থক্য কমানোই তার সফরের লক্ষ্য বলে জানা গেছে। কুশনারের সঙ্গে গাজার জন্য ‘বোর্ড অব পিস’-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভও থাকবেন।
সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৫ দফা ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। পরিকল্পনাটির আওতায় হামাস তাদের অস্ত্র নতুন একটি ফিলিস্তিনি পরিচালনা কমিটির কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছিল বলে জানা গেছে।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এএফপিকে বলেন, তারা নেতানিয়াহু ও তার সরকারকে পরিকল্পনার রোডম্যাপ মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইসরায়েলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি সরকারি সূত্রের দাবি, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে।
নেতানিয়াহু গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, হামাস সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে কোনো প্রত্যাহার করবে না।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, লেবানন ও সিরিয়ার দখলকৃত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলেও’ ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করবে। ফলে তিনটি ফ্রন্টেই ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা করেছেন।
সূত্র : আল জাজিরা, এএফপি ও আনাদোলু
সময়ের আলো/ইউএমএইচ