ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানে টানা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ইরানের সরকারি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির মরদেহের প্রতি জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
এরপর আগামী ৬ জুলাই রাজধানীতে চূড়ান্ত জানাজা ও আনুষ্ঠানিক বিদায় পর্ব সম্পন্ন হবে। এই ব্যাপক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তেহরান প্রদেশজুড়ে তিন দিনের এই বিশেষ সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে।
ইরানের সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকেরা জানিয়েছেন, খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কুমে আরেকটি বিশেষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেবল একটি ধর্মীয় বা বিদায়ী আচার নয়, বরং এটি ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার নতুন রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই শেষ বিদায়ে দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করছে দেশটির প্রশাসন।
সময়ের আলো/জেডি