জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) এক সম্পাদকসহ তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর ও শ্বাসরোধের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্যাম্পাসে নিজের নিরাপত্তা দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযোগকারী নাঈম আহমদ সানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন, বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের আসাদুজ্জামান ইমন এবং দর্শন বিভাগের সাহানুর রহমান সানজু। অভিযুক্তদের মধ্যে কিরণ জাতীয় ফুটসাল দল এবং সানজু জাতীয় বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড়।
লিখিত অভিযোগে সানি উল্লেখ করেন, গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার ফুটবল ম্যাচ দেখতে যান তিনি। সেখানে একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলায় খেলা সম্প্রচারে বিলম্ব হচ্ছিল। রাত পৌনে ১১টার দিকে খেলার পর্দা বন্ধ হয়ে গেলে জাকসু ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ ঘোষণা দেন, মঞ্চ থেকে সবাই নেমে না গেলে খেলা চালু করা হবে না। এ সময় সানি দ্রুত খেলা চালুর পক্ষে কথা বললে কিরণ মঞ্চ থেকে নেমে এসে তাকে ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে কিরণ, ইমন ও সানজুসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং গলায় থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করলে তিনি টিএসসির একটি ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকসু ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত দর্শকের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কেবল কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে তিনি আহত হয়েছেন শুনে সৌজন্যবশত আমি তার হলে খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। অন্য অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান ইমনও দাবি করেন, তারা কেবল বাগ্বিতণ্ডা থামাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তবে অন্য অভিযুক্ত সাহানুর রহমান সানজুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুক্তমঞ্চের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। ঘটনার সঙ্গে জাকসুর সদস্য বা সাধারণ শিক্ষার্থী যারাই জড়িত থাকুক, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনেছি। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যও নেওয়া হবে। এরপর উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই