যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। তারা সাফ জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত কোনো বিষয়েই এমন কোনো সম্মতি দেওয়া হয়নি। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে সদ্য স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত সপ্তাহে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই পক্ষ একটি প্রাথমিক রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনা শেষে আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ— সব কটি প্রধান ইস্যুতেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ পেয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেনসিলভানিয়ার এক জনসভায় ইতিবাচক দাবি করলেও খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই এই যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন কমছে। সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন এই যুদ্ধের ফলে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আগের চেয়ে দুর্বল হয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন সিনেট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে একটি প্রতীকী প্রস্তাব পাস করেছে। ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’-এর অধীনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা প্রত্যাহারের এমন যৌথ প্রস্তাব মার্কিন ইতিহাসে এবারই প্রথম।
চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে সম্মত হয়েছে ইরান। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া প্রায় ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতিসংঘ। তবে ইরান ও ওমান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই জলসীমায় তাদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে এবং পরবর্তীতে তারা জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে সাফ জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানকে কোনোভাবেই শুল্ক আদায়ের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এছাড়া ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়করণের ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অর্থ দিয়ে ইরান কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও ওষুধ কিনতে পারবে। তবে জেনেভায় জাতিসংঘের ইরানি রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তা সম্পূর্ণ ইরানের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল লেবানন থেকেও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখবে। ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা চললেও গতকাল দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি/লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ একে রোববারের যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
সময়ের আলো/কহু