এভারেস্ট থেকে ৩০ বছর আগের পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধারে অভিযানে নামছে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
গ্রিন বুটসের মরদেহ। ছবি : সংগৃহীত
পৃথিবীর এক অপার বিস্ময়ের নাম এভারেস্ট পর্বত। এই সর্বোচ্চ শৃঙ্গের চূড়ায় নিজের পদচিহ্ন রাখার জন্য আজ অবধি অনেকেই সেখানে আরোহণ করেছেন। কেউ সফল হয়েছেন, কেউ ব্যর্থ। কেউ জীবিত ফিরতে পেরেছেন, কেউ আবার সেই বরফের দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এভারেস্টে আরোহণ করতে গিয়ে ৩০ বছর আগে জীবন হারানো তেমনই একজন পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার অভিযানে নামার পরিকল্পনা করছে ভারত।
ইতোমধ্যে ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে 'গ্রিন বুটস' নামে পরিচিত ওই পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধারের জন্য অতি-উচ্চতায় কাজ করা উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করেছে। দরপত্রে চুক্তিবদ্ধ দলকে চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে মরদেহটি দিল্লিতে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি এভারেস্টে এখন পর্যন্ত পরিচালিত সবচেয়ে জটিল উদ্ধার অভিযানের একটি হবে। নেপালভিত্তিক 'এভারেস্ট শেরপা এক্সপেডিশনের’ প্রতিষ্ঠাতা তাশি জাংবু শেরপা এটিকে স্বাভাবিক পর্বতারোহণের তুলনায় 'দ্বিগুণ ঝুঁকিপূর্ণ' বলে মন্তব্য করেছেন।
তাশি জাংবু শেরপা।
তাশি জাংবু শেরপা এক গণমাধ্যমে আরও জানান, তিনি একাধিকবার এভারেস্ট চূড়ায় পৌঁছেছেন এবং ২০২৪ সালে এভারেস্ট রেঞ্জের বিভিন্ন পর্বত থেকে ৫টি মরদেহ উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি মনে করছেন, গ্রিন বুটসের মরদেহ উদ্ধার করতে ১০ সদস্যের একটি প্রশিক্ষিত দলের প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া, আবহাওয়ার কারণে বসন্তের আগে এই অভিযান শুরু করা প্রায় অসম্ভব। এতে দরপত্রে উল্লিখিত জুন থেকে অক্টোবর সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ এ মন্তব্যের বিপরীতে সাড়া দেয়নি।
চলুন এবার জেনে নিই, গ্রিন বুটস কে, যার মরদেহ উদ্ধার করতে এমন কঠিন অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলো এত বছর পর?
এভারেস্ট পর্বত।
মৃত পর্বতারোহীর পায়ে ছিল সবুজ বুট। মূলত, সাদা বরফের ভেতর সেই উজ্জ্বল সবুজ রঙের বুট জুতার কারণে মৃতদেহটির এমন নামকরণ হয়েছে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত ধারণা করা হতো, গ্রিন বুটস ছিলেন ২৮ বছর বয়সী ত্সেওয়াং পালজর, যিনি ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১০ মে একদল পর্বতারোহীর সঙ্গে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করেন। জন ক্রাকাওয়ারের বই 'ইনটু থিন এয়ার' থেকে সেই দুঃসহ অভিযানের গল্প জানা যায়। অভিযানের একপর্যায়ে হঠাৎ ভয়াবহ তুষারঝড় শুরু হয়। ঝড়ের মধ্যেও দলের ৩ জন পর্বতারোহী শীর্ষে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যান, কিন্তু কেউই ফিরে আসতে পারেননি। গ্রিন বুটস সেই ৩ জনের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি, যার মরদেহ পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে দরপত্রের নথিতে মরদেহটি ভারতীয় সৈনিক দর্জে মোরুপের বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি পালজরের সহযাত্রী ছিলেন। দ্য গার্ডিয়ান এবং এএফপি জানিয়েছে, তারা এমন নথি দেখেছে যেখানে ডিএনএ পরীক্ষায় মরদেহটি মোরুপের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২৬ হাজার ২০০ ফুটের ওপরে অবস্থিত এ অঞ্চল এভারেস্টের 'ডেথ জোনের’ মধ্যে পড়ে। এখানে অক্সিজেনের স্তর ভীষণ কম থাকায় দীর্ঘ সময় মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাশি জাংবু শেরপার মতে, প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এ মরদেহ তিব্বতের দিক থেকে শীর্ষে ওঠা পর্বতারোহীদের জন্য ভয়াবহ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। যখন তারা বেসক্যাম্প বা অন্য পর্বতারোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তারা বলে- আমরা এখন গ্রিন বুটসের খুব কাছাকাছি!