সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ মোছা. আতিকা খাতুন (২৮) হত্যা মামলায় উপজেলা জামায়াতের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া গ্রামের এন্তাজ আলীর ছেলে ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান আলী (৪৫), মো. আলাউদ্দিন (৪০), আল আমিন (৩২) এবং আলাউদ্দিনের স্ত্রী মোছা. শিউলী খাতুন ওরফে সাজেদা (৪০)।
সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার বাঘলবাড়ি গ্রামের মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওসমান গনির অনার্স পাস মেয়ে আতিকা খাতুনের সঙ্গে তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের এন্তাজ আলীর ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিয়ে হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ মে দিবাগত রাতে আবারও আতিকার ওপর নির্যাতন শুরু করেন মামুন। গভীর রাত পর্যন্ত চলা ওই ঘটনার একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রীর বুকের বাম পাশে আঘাত করেন তিনি।
নিহতের বাবা মো. ওসমান গনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মেয়ের সংসারের সুখের কথা ভেবে আমি ঋণ করে জামাইকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা দিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার মুরাদনগর ফাজিল মাদরাসায় ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাষক হিসেবে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। অথচ সেই ছেলে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২৮ মে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া সরকারপাড়া গ্রামে আতিকা খাতুনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিরা পলাতক ছিলেন।
তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের তাড়াশ থানায় আনা হয় এবং বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে