পিইডিপি-৪ এর আওতায় মেহেরপুরের গাংনীর পাকুড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সিমেন্ট, খোয়া ও বালু ব্যবহারের ফলে ইতোমধ্যে ওয়াশব্লকের ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।
জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৪ টাকা ব্যয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে পাকুড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজ পান চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। কাজের শুরু থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বালু সিমেন্ট ও ইট ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
পাকুড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমান টিটু আহমেদ ও জিয়াউর রহমান জানান, কাজের শুরুতেই নিম্নমানের ইট ও লোকাল বালু ব্যবহার শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেসময় প্রধান শিক্ষককে অবহিত করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও জানানো হলে তারা বিষয়টি আমলে নেননি। ছুটির দিনেও শ্রমিকরা কাজ করেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কোনো লোকজনকেও পাওয়া যায় না। এখনই ছাদ ভেঙে পড়ছে। কিছুদিন পর গোটা ওয়াশব্লক ভেঙে পড়লে অনেক শিশু শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু ঘটবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এমন নিম্নমানের কাজ চলছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুপালী খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, নিম্নমানের কাজের বিষয়ে তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবে তিনি কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেননি। ছাদ করার পর সার্টার খোলার সময় ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে অবগত করবেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ জানান, ছাদ ঢালাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট অফিসকে জানাতে হয়। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনোরকম অবহিত না করেই কাজ করেছেন। ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে কাজ করার জন্য বলা হবে। তবে, নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
সময়ের আলো/মহু