কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া প্রতিটি খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির দশতলা ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের বিচার হবে। এই বাংলাদেশে প্রতিটি খুনের বিচার হবে, প্রতিটি মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার হবে, সেই বিচারের পথ ধরে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। সেই বিচার কোনো গোপন বিচার হবে না, ন্যায় বিচার হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনার আমলে আমরা সাড়ে চার হাজারেরও বেশি সহযোগিতাকে হারিয়েছি। তাদেরকে ক্রসফায়ারের নামে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ৭০০ বেশি সহযোদ্ধাকে গুম করা হয়েছিল। বিগত ১৭ বছরে বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লক্ষের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছিল।
সমস্ত বাঁধার প্রাচীর পেরিয়ে ২৪শে জুলাই অভ্যুত্থান এসেছিল। সমস্ত বাধা পেরিয়ে তরুণ প্রজন্ম আমাদের এমন এটি বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছে, যে বাংলাদেশ পেতে ১৪০০ মানুষকে হারাতে হয়েছে। ৩০ হাজারের মতো সাহসী তরুণ পঙ্গু হয়েছে। তাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ পেয়েছিলাম সেই বাংলাদেশ নিয়ে আমরা ছেলে খেলা করতে পারিনা। ফ্যাসিস্ট ফিরে আসার পথ আর সুগম করতে পারি না বলেও যোগ করেন তিনি।
এই সরকার ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে ইরান যুদ্ধ। ইরান যুদ্ধে গোটা বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত, আমেরিকায় তেলের দাম বেড়েছে ৫০০ টাকা। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নাই যেখানে তেলের দাম বাড়েনি। আমরা চেষ্টা করেছি সবশেষে গিয়ে তেলের দাম বাড়ানোর। এলএনজি গ্যাস আনা হতো যে সমস্ত দেশ থেকে জাহাজ আসতে পারছে না। এর মধ্যেও আমরা চেষ্টা করছি ঘুরে দাঁড়ানোর এবং আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একদিকে যারা হারিকেন সামনে নিয়ে গ্যাস বিদ্যুতের দাবিতে মিছিল করছেন, পিছনে ইলেকট্রিক কানেকশন নিয়ে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছেন। এটা হল বাস্তবতা। আমরা বলছি না যে সংকট নেই, আমরা বলছি সংকট আছে এবং সংকটের সমাধানের উপায় আমরা বের করার চেষ্টা করছি নিরন্তর ভাবে। আমরা মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেই না।
আইনমন্ত্রী বলেন, হাতের ভোটের কালির দাগ মুছে যাওয়ার আগেই ভোটের মাঠে দেওয়া প্রদত্ত প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। এখন যারা আজকের গুপ্ত আছেন তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন। এ বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটা পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমরা কৃষক কার্ড চালু করেছি। আগামীতে আমরা পর্যায়ক্রমে সকল কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেব।
তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অপেক্ষা করুন, ধৈর্য ধরুন, প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন, বাংলাদেশের যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন তার সবকিছু এসেছে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের হাত ধরে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিগত সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একসময় ‘লাল টেলিফোনের’ মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল। সেই সংস্কৃতি দূর করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগে অনেক সমস্যা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা দূর করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বরিশাল-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, বরিশাল সদর আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ ফারুক হোসেন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন।
সময়ের আলো/আতা