ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু জায়গায় স্মোকিং জোন করার জন্য ঢাবি উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন ‘আলাদাভাবে স্মোকিং জোন তৈরির কোনো আশ্বাস দিইনি।’
রোববার (১২ আগস্ট) ডাকসুল সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ, আপনাদের বহুল প্রত্যাশিত ঔষধের ফার্মেসি এবং সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণের কাজ আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যেই আশা করা যায় শুরু হয়ে যাবে। সব গুছিয়ে এনেছি। নিরাপদ ক্যাম্পাসের জন্য আমার করা প্রপোজালগুলোর মধ্যেও কয়েকটা বাস্তবায়ন হবে।
নিরাপদ ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের তিনি জানান, ‘ক্যাম্পাস পুলিশ প্রজেক্ট ইতোমধ্যেই স্টেট অফিসের রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাকিগুলোও চেষ্টা করছি। কিছু নতুন সিসি ক্যামেরা এবং স্ট্রিট লাইট বসানো হবে। কিছু স্মোকিং জোন তৈরি করার আশ্বাস দিয়েছেন ভিসি স্যার। আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট অনুষদ (২১ তলা ভবনের) ক্যান্টিন এবং মোতাহের হোসেনের ক্যানটিনের কাজ দ্রুত শেষ হবে।’
তবে বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ও চত্বরের ভেতরে ধূমপান করা আইনগত অপরাধ। এমনকি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের সময়ের আলোকে বলেন, ‘স্মোকিং জোন করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি মূলত অধূমপায়ী শিক্ষার্থীদেরকে প্যাসিভ স্মোকিং থেকে রক্ষা করার জন্য। স্মোকিং করতে আমরা সবসময়ই অনুৎসাহিত করি। কিন্তু তারপরও অনেকেই তো করেন। তো যারা করেন তারা যদি যত্রতত্র স্মোকিং না করে নির্দিষ্ট জোনে গিয়ে করেন তাহলে তার ধূমপানের কারণে অন্য অধূমপায়ী শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। প্যাসিভ স্মোকিং থেকে রক্ষা পাবে। এই লক্ষ্যে আমরা কিছু স্মোকিং জোন তৈরি করার দাবি জানিয়েছিলাম। আজকে ভিসি স্যার স্টেট ম্যানেজারকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে বলেছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমার কাছে অনেকগুলো দাবি নিয়ে আসা হয়েছিল। আমি সার্বিকভাবে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আশ্বাস দিয়েছি। আলাদাভাবে কোন স্মোকিং জোনের কথা আমি বলিনি। আমাদের কাছে অনেক দাবিই আসে। আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সব তো আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি না।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলাদা কোনো স্মোকিং জোন তৈরির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আপাতত এই বিষয়ে কোনো কমেন্ট দিতে চাচ্ছি না। স্মোকিং জোন তৈরি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি।’
সময়ের আলো/টিকে