চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থার অবসান হয়নি। উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুখোশ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সাবেক উপাচার্যের ছবি সংবলিত মুখোশ পরে এবং আইডি কার্ড উঁচিয়ে মিছিলে অংশ নেন শত শত শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা জানান, দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ৫৬ দিন স্মরণে এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আন্দোলন বানচাল করতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে এসে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে কর্মসূচি পালন করায় বিভিন্ন মহল থেকে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতির চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাহারা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার এ পাহারা অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। ফলে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এখনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।
একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন। রোববার থেকে শিক্ষক সমিতি এ কর্মসূচি শুরু করে। কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকাল চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। টানা কর্মবিরতি ও শিক্ষার্থীদের শাটডাউনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনেও অবস্থান করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
চলমান শাটডাউন কর্মসূচির সমর্থনে সোমবার রাতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। আবাসিক হলগুলো থেকে মিছিল নিয়ে তারা স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হন। পরে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল হয়। রাতে মাঠে বসে চলচ্চিত্রও দেখেন আন্দোলনকারীরা।
চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। আন্দোলনের কারণে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্তত ছয় বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। পরদিন তিনি দায়িত্ব নেন। পরে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে না এসেই দায়িত্ব নেন। আন্দোলনের কারণে তিনি এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারেননি। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে