আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ ও উপবৃত্তির ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ভর্তির হার বেড়ে লৈঙ্গিক সমতা অর্জিত হয়েছে। তবে, প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিকে উঠতেই তাদের একটি বড় অংশ শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫ অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার চিত্র এখনো উদ্বেগজনক বলে উঠে এসেছে। উপাত্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ৮৪ শতাংশ শিশু, কিন্তু প্রাথমিকের পর মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে আরও কম। নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে (ষষ্ঠ–অষ্টম শ্রেণি) মেয়েদের সমাপ্তির হার ৭৬ শতাংশ, ছেলেদের ৬৩ শতাংশ।
অর্থাৎ, প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য বাড়লেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিক্ষার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বাল্যবিবাহের বিষয়টি উঠে এসেছে।
সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ শতাংশ ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে করেছেন এবং ১৩ শতাংশ ১৫ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে করেছেন। ফলে, কন্যাশিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
কন্যাশিশুর শিক্ষা শুধু একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে পরিবার, সমাজ ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নও জড়িত। তাই বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ধরে রাখা, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সময়ের আলো/মহু