দ্বীন শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে ঢাকার উত্তরায় মুহতামিম ও দায়িত্বশীলদের দিনব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উত্তরার বিমানবন্দর এলাকায় জামিয়া বাবুস সালামে উত্তরা আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৃহত্তর উত্তরা-টঙ্গী এলাকার পাঁচ শতাধিক মুহতামিম ও দায়িত্বশীল অংশ নেন।
উত্তরা আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ডের কার্যকরী প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীর সভাপতিত্বে সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা আনিসুর রহমান।
সম্মেলনে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের মাওলানা মুহাম্মদ আহমদ লুধিয়ানভী, মাওলানা আশরাফ তাহের, মুনাজিরে জমান মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, আকবর কমপ্লেক্স মিরপুরের মুহতামিম মুফতি দিলাওয়ার হুসাইন, ফরিদাবাদ মাদরাসার প্রধান মুফতি আবু সাঈদ, উত্তরা আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি মুফতি কেফায়তুল্লাহ আজহারীসহ বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক ও দায়িত্বশীলরা।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, কওমি মাদরাসা দ্বীনি শিক্ষা ও আদর্শ নাগরিক তৈরির প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের নেতৃত্বের জন্য যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও তারবিয়াহর মানোন্নয়নে মুহতামিম ও দায়িত্বশীলদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি মাদরাসায় শিক্ষা ও তারবিয়াহর মানোন্নয়নের দৃশ্যমান পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠানে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সবসময় সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার প্রসঙ্গে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, মিথ্যা প্রপাগান্ডা ও অপপ্রচারের মোকাবিলা করতে হবে জোরালোভাবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। প্রয়োজন হলে কওমি মাদরাসা শিক্ষার ইতিবাচক ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আখতারুজ্জামান, মাওলানা শেখ বোরহানুদ্দীন, মুফতি মনসুরুল হক, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মুফতি শওকত কাসেমী, মাওলানা ইউসুফ লাকসামী, মুফতি গিয়াসুদ্দিন আল-মাদানী, মাওলানা জাকির হুসাইন গাওয়াইর, মুফতি জাকির হুসাইন, মাওলানা আহমদ শফী তুরাগ, মুফতি আলামীন, মাওলানা মুকাররম ও মাওলানা মায়মুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম ও মাদরাসার দায়িত্বশীলরা।
সময়ের আলো/এসএকে