সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ৯০০ গাছের চারা রোপণের জন্য উন্নয়ন সহায়তার তহবিল থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তা, স্কুল, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের কথা থাকলেও বাস্তবে নামমাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কিছু গাছ বিতরণ করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হক মিলন জানান, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দে ইউনিয়নে ৯০০টি গাছ লাগানো হয়েছে। তবে কোন কোন রাস্তা বা প্রতিষ্ঠানে এসব গাছ লাগানো হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, প্রকল্পের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন।
পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার কাছেই যখন গাছ রোপণের স্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তখন ৯০০টি গাছ বাস্তবে লাগানো হয়েছে কি না— তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য বাবু আকন্দ জানান, নয়টি ওয়ার্ডে ৯০০টি গাছ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক সদস্যকে ১০০টি করে গাছ দেওয়া হয়। তার দাবি, মেহগনি ১২০ টাকা, জাম ১১৮ টাকা ও পেয়ারা ১১৯ টাকা দরে কেনা হয়েছে। গাছের খুঁটির জন্যও অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।
স্থানীয় নার্সারি মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব গাছের অনেকগুলোই বাজারে ৪৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এ হিসাবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ৯০০ গাছ— অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি গাছে ২০০ টাকা ব্যয়— কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। সঠিক মূল্যে গাছ কেনা হলে একই বরাদ্দে আরও বেশি গাছ রোপণ করা সম্ভব হতো।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নওজেশ আলী বলেন, নয়টি ওয়ার্ডের মেম্বার এবং মহিলা মেম্বারদের মধ্যে গাছ বিতরণ করা হয়েছে। গাছ গুলো স্কুল, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন রাস্তায় লাগানো হয়েছে।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সময়ের আলো/আতা