কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌর শহরের দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় মুখোশধারীদের হামলায় টিভি মেকানিক গোলাম হায়দার (৫৮) নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে হামলার শিকার হওয়ার পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
গোলাম হায়দার ভেড়ামারা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়া এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। নিহতের ছেলে পলাশ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের পরিবার, ভেড়ামারা থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৫ বছর ধরে ভেড়ামারা পৌরসভার দক্ষিণ রেলগেট বোর্ড স্কুলের সামনে টেলিভিশন মেরামতের কাজ করতেন গোলাম হায়দার। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পর তিনি দোকান খুলতে যান। দোকানের শাটার খোলার সময় পেছন থেকে ৩-৪ জন মুখোশধারী তাঁর ওপর হামলা চালায়।
পরিবারের দাবি, হামলাকারীদের হাতে হাতুড়ি, রামদা, হাতকুড়াল, জিআই পাইপ ও লোহার রড ছিল। তারা গোলাম হায়দারের মাথায় ৭-৮টি আঘাত করেন। এতে তাঁর ডান পায়ের নিচের অংশ ভেঙে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
গোলাম হায়দারের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে পলাশ বলেন, আমার বাবাকে ৩-৪ জন মুখোশধারী পেছন থেকে হামলা করে। তারা হাতুড়ি, রামদা, হাতকুড়াল, জিআই পাইপ ও লোহার রড ব্যবহার করেছে। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
তিনি জানান, আজ রবিবার তার বাবার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বাদ আসর জানাজা নামাজ শেষে মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এরপর থানায় গিয়ে তারা মামলা করবেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার মুখোশধারীদের হামলায় আহত গোলাম হায়দার ঢাকায় মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় থানায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা