নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারের পর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিক উল্লাহর আদালতে তারা জবানবন্দি দেয়। গ্রেফতার দুই কিশোর হলো, সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম শ্রাবণ (১৬) ও আকবর হোসেন ফাহিম (১৭)।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাতে সোনাইমুড়ীর নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে পূর্বশত্রুতার জেরে ফয়েজকে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করা হয়। পরে লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দুই কিশোর ও তাদের সহযোগীরা। একপর্যায়ে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়েজকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। মামলায় সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামালসহ (২৬) অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ার পর সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিনকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়।
পিবিআই জানায়, তিন মাসের বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র বিশ্লেষণ, মাদকসেবী ও অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ এবং কিশোর গ্যাং চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারবহির্ভূত ওই দুই কিশোরকে আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানায় সংস্থাটি। পরে রোববার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
তদন্তে পিবিআই আরও জানতে পেরেছে, ওই দুই কিশোর নিজ এলাকা ও আশপাশের কিশোরদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলেছিল। দলটি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মব তৈরি ও অরাজকতার মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করে আসছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার দিন ফয়েজ তাদের মাদক সেবনে বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে ফয়েজের পথরোধ করে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
নোয়াখালী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
সময়ের আলো/এনএন