সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চট্টগ্রামের আরেকটি গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ডের চৌধুরীঘাটা এলাকার বারাকা শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে ভারী মালামাল পড়ে মো. আলাউদ্দিন নামের এক ফিটার ম্যান গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৮টার দিকে ইয়ার্ডে কাজ করার সময় হঠাৎ ওপর থেকে একটি ভারী লোহার বস্তু নিচে পড়ে আলাউদ্দিনের শরীরে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রামের ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। আহত আলাউদ্দিন সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনাটি প্রথমে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ গোপন রাখার চেষ্টা করলেও পরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের শ্রম পরিদর্শক সাহেদ পারভেজ তালুকদার জানান, আহত শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।
এদিকে মাত্র দুই দিন আগে, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর নতুন করে আরেকটি ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার ঘটনায় শিপব্রেকিং শিল্পের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহিন। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ‘নয়জন শ্রমিকের প্রাণহানির রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা প্রমাণ করে নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কতটা গাফিলতি রয়েছে। শিল্প খাতটিকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে সরকারের কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।’
বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)-এর পক্ষ থেকেও আহত শ্রমিকের চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে