সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ জন শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তিন দিন পার হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। বিস্ফোরণ ও গ্যাস দুর্ঘটনার পরও বিস্ফোরক অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ অধিদফতর থেকে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
শিপইয়ার্ডে মর্মান্তিক এ প্রাণহানির পর রোববার (১৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম। মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা বলেন, শ্রমিকের জীবনকে মুনাফার চেয়ে কম মূল্য দেওয়া যায় না। কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা মালিক ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, রোববার বিকেল পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে আসেননি। পুলিশ পরিবারগুলোর সাথে যোগাযোগ বজায় রাখছে। স্বজনেরা মামলা না করলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসআরবি) জানিয়েছে, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিএসআরবির মহাপরিচালক এ. এস. এম শফিউল আলম তালুকদারের নির্দেশে ইয়ার্ডটির সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ (স্টপ অপারেশন অর্ডার) করা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে মামলা হওয়ার সুযোগ কম থাকে এবং ইয়ার্ড বন্ধের নির্দেশ দেওয়াটাও একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা বলেও জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এ পর্যন্ত মোট ৪টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, শিল্প মন্ত্রণালয় ও শিপইয়ার্ড মালিকদের সংগঠন বিএসবিআরএ-এর ৩টি কমিটির পাশাপাশি রোববার শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ পুন:প্রক্রিয়া শাখা থেকে ৩ সদস্যের একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।
এই কমিটিতে যুক্ত আছেন বুয়েট কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খান , বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক, ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ, বিস্ফোরক অধিদফতর, ঢাকার সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, মোহাম্মদ মেহেদি ইসলাম খান।
বিশেষজ্ঞদের এই দলটি সরেজমিনে সীতাকুণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ট্র্যাজেডি এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
সময়ের আলো/আতা