ইউরোপের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশ পর্তুগালে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির জাতীয় অভিবাসন সংস্থা ‘এআইএমএ’ -এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে পর্তুগালের প্রতি সাতজন বাসিন্দার মধ্যে একজনই বিদেশি নাগরিক। বৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের নাগরিকরা অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছেন।
এআইএমএ-এর ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশই এখন বিদেশি নাগরিক। দেশটির ১ কোটি ৭ লাখ মোট জনসংখ্যার মধ্যে বর্তমানে ১৫ লাখের বেশি অভিবাসী বৈধ রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতি নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
অথচ ২০২৩ সালে পর্তুগালে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ ৪৪ হাজার, যা ছিল তৎকালীন মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে দেশটিতে অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পর্তুগালে বিদেশি নাগরিকদের এই অভূতপূর্ব জোয়ারের পেছনে বাংলাদেশিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটিতে মাত্র ২৫ হাজার ৬৬৬ জন বাংলাদেশি বৈধ রেসিডেন্স কার্ড নিয়ে বসবাস করছিলেন। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান চিত্র পাল্টেছে, এই তিন বছরে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এআইএমএ-তে বর্তমানে অপেক্ষমাণ ও প্রক্রিয়াধীন থাকা হাজার হাজার বাংলাদেশি আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হলে এই সংখ্যা আগামীতে আরও বড় হবে।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, পর্তুগালের স্থানীয় শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট, সহজ ও নমনীয় ভিসা সুবিধা এবং নির্দিষ্ট সময় পর স্থায়ীভাবে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ (পাসপোর্ট প্রাপ্তি) থাকার কারণে দেশটি বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে প্রধান আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কৃষি, পর্যটন, রেস্তোরাঁ ও আইটি খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে নিয়েছেন।
তবে পর্তুগালে বৈধ উপায়ে গমনেচ্ছুদের জন্য একটি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা বা রেসিডেন্স পাইয়ে দেওয়ার নামে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দালালচক্র এবং ভুয়া চাকরির কাগজপত্রের (কন্ট্রাক্ট) ফাঁদে পড়ে অনেক প্রবাসী প্রতারিত হচ্ছেন। তাই যে-কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা আবেদনের ক্ষেত্রে শতভাগ সতর্ক ও বৈধ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/জেডি