প্রায় সব বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকায়ই কলা থাকে। কারণ, কলা একইসঙ্গে সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। প্রতিদিন একটি করে কলা টানা ৪৫ দিন খেলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, সে বিষয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় কিছু ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কলায় প্রায় ৮৯ ক্যালরি, ২২.৮০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৬ গ্রাম খাদ্যআঁশ এবং ৩৫৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ৪৫ দিন কলা খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে, যা হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে এটি রক্তনালির স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
পরিপাকতন্ত্রের ওপরও কলার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায় এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
কলা প্রাকৃতিক শর্করার ভালো উৎস হওয়ায় এটি দ্রুত শক্তি জোগায়। তাই ব্যায়ামপ্রেমী, কর্মব্যস্ত মানুষ কিংবা দিনের শুরুতে বাড়তি শক্তি প্রয়োজন হয়- এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি উপযোগী খাবার।
এ ছাড়া ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা মানসিক প্রশান্তি ও ভালো মেজাজ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে শরীরের তরল ভারসাম্য ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে।
তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকাও জরুরি। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে ক্যালরির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। আবার যাদের কিডনির জটিল রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পটাশিয়াম ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।
প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে আপনার খাদ্যতালিকায় কলা রাখুন। বৈচিত্র্য আনতে বিভিন্নভাবে এটি খেতে পারেন। পাউরুটি টোস্ট করে সঙ্গে পিনাট বাটার ও কলার স্লাইস, অথবা দুধ, সামান্য মিষ্টি ও ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্টের সঙ্গে কলা ব্লেন্ড করে তৈরি করুন সুস্বাদু শেক। এ ছাড়া, ওটস, দই, মধু এবং কলার স্লাইস মিশিয়ে স্বাস্থ্যকর নাশতা তৈরি করা যেতে পারে।
সময়ের আলো/মহু