কাকডাকা ভোরে বাজারে আসতে থাকে কলাবোঝাই যানবাহন। পরিবহন থেকে কলার কাঁদি নামিয়ে হাটের নির্ধারিত স্থানে সাজিয়ে বসেন চাষিরা। এরপর শুরু হয় বেচাকেনা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রতিদিন বিক্রি হয় কোটি টাকার কলা।
বলছিলাম কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর কলা বাজারের কথা। এখানকার কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশে। বর্তমানে বাজারে দাম বেশি থাকায় কলা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এ বাজারে রবি ও বুধ প্রত্যেক হাটবারে প্রায় ৪০-৫০ ট্রাকের মতো কলা বিক্রি হয়। যার বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি। এসব কলা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়।
মোকামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কলা এনে চাষিরা মহাসড়কের দুই পাশে কলার কাঁদি বিছিয়ে ও স্তূপ করে সাজিয়ে রেখেছেন। বেপারিরা কলা কিনতে চাষিদের ঘিরে দরদাম করছেন। বাজার চড়তি থাকায় চাষিরা শুরুতে বেশি দাম চেয়ে বসছেন। বেপারিরাও যথাসাধ্য দর কষাকষি করে কিনছেন।
আশিদ মিয়া, আব্দুল হালিমসহ একাধিক বেপারি জানান, বর্তমানে প্রতি কান্দি অনুপম কলা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ও চিনি চাম্পা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। সপ্তাহের রবি ও বুধবার এ হাট বসে। এই দুই হাট থেকে প্রতি হাটবারে গড়ে প্রায় ৪০-৫০ ট্রাক কলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, টাঙ্গাইল, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাটসহ দূর-দূরান্তের বিভিন্ন বিভাগীয়, জেলা-উপজেলা শহরে যায়। প্রতি ট্রাকে গড়ে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার কলা থাকে বলেও জানান বেপারিরা।
বিক্রেতারা জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা এ হাটে কলা বিক্রি করতেন। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা কলা কিনতে আসায় কৃষকরা ভালো দামও পান। দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী এ কলার হাটে হাজারও ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। ঐতিহ্য ধরে রাখতে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নতসহ হাটের আকার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একাধিক কলা চাষি জানান, বাজার থেকে প্রত্যেক হাটবারে গড়ে ২০ থেকে ২৫ ট্রাকের মতো কলা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে এই দুই মোকামে ব্যাপক পরিমাণ কলার আমদানি হয়। ওই সময় এখান থেকে প্রতি হাটবারে শতাধিক ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায় বলেও জানান চাষিরা।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.সাদিকুর রহমান বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এ হাট ছাড়াও জেলায় ছোট-বড় আরও বেশ কয়েকটি কলার হাট রয়েছে। এখানে বিক্রি হয় জেলার বিখ্যাত বিভিন্ন জাতের কলা। কলার আবাদ বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে চাষিদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়।’
সময়ের আলো/মহু