শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরিস্থিতি এখন আরও ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিখোঁজের তালিকা। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন উপদ্রুত এলাকায় ধসে পড়া শত শত বহুতল ভবনের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের একটি রাজনৈতিক বিরোধী দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজদের তালিকা তৈরির জন্য একটি লিংক উন্মুক্ত করার পর, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানে অন্তত ১১ হাজার মানুষের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার বোগোতা (কলম্বিয়া) প্রতিনিধি তেরেসা বো ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানিয়েছেন, পুরো দেশে এখন এক চরম আতঙ্ক ও ট্রমার পরিবেশ বিরাজ করছে। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে মানুষের প্রতিটা মুহূর্ত।
সাক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ সাপ্তাহিক ছুটি (লং উইকএন্ড) চলছিল। ফলে অধিকাংশ মানুষই সে সময় কর্মস্থলে না থেকে নিজ নিজ পরিবার নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঠিক এই সময়েই আকস্মিক দুর্যোগটি আঘাত হানে।
কারাকাসের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চোখের পলকে একের পর এক বহুতল ভবন ধসে পড়তে শুরু করে এবং তীব্র কম্পনে প্রধান সড়কগুলোতে বিশাল বিশাল ফাটল দেখা দেয়। মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের ভেতর আটকা পড়েন।
সংশ্লিষ্টরা স্পষ্ট করেছেন, ১১ হাজার নিখোঁজের এই পরিসংখ্যানটি কেবল তাদের পক্ষ থেকেই এসেছে, যারা এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেও কোনোভাবে ইন্টারনেট সচল পেয়ে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য অনলাইন পোর্টালে রিপোর্ট করতে পেরেছেন।
যেহেতু ভূমিকম্পের পর কারাকাসসহ দেশের একটি বিশাল অংশে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তাই লাখ লাখ মানুষ এখনো তাদের নিখোঁজ প্রিয়জনদের নাম তালিকায় তুলতে পারেননি। ফলে সময় যত গড়াবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হবে, নিখোঁজ ও হতাহতের এই সংখ্যা আরও অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সময়ের আলো/কহু