কেন সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির এক আদালত। একই মামলায় তার ছোট ভাই

2026-08-11T19:35:50+00:00
2026-08-11T19:35:50+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কেন সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম 
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। সংগৃহীত ছবি
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির এক আদালত। একই মামলায় তার ছোট ভাই ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মাহের আল-আসাদ এবং তার মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

তবে বাশার আল-আসাদ ও মাহের বর্তমানে সিরিয়ায় নেই। তারা দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই তাদের অনুপস্থিতিতেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।

সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের জন্য সাবেক সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। সেই প্রক্রিয়ায় বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায়কে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন তিনি।

সে সময় সিরিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে দারায় বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ ওঠে নাজিবের বিরুদ্ধে।

আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর মতো অপরাধের সঙ্গে নাজিব জড়িত ছিলেন। এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

ক্ষমতা হারিয়ে রাশিয়ায় আসাদ

দীর্ঘ ২৪ বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট থাকার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতা হারান বাশার আল-আসাদ। ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন বাহিনী রাজধানী দামেস্কের দিকে এগিয়ে গেলে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ার মস্কোতে চলে যান।

আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটিতে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারের নেতৃত্বে আসেন আহমেদ আল-শারা। তিনি আগে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় যুক্তরাষ্ট্র তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আসাদ সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। কেউ আদালতে উপস্থিত হয়ে এবং কেউ অনুপস্থিত থাকায় এসব মামলার বিচার চলছে।

বাশার আল-আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায় নতুন সরকারের অধীনে সাবেক সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিচারের ক্ষেত্রে প্রথম বড় পদক্ষেপ।


পাঁচ দশকের বেশি সময় আসাদ পরিবারের শাসন

সিরিয়ায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আসাদ পরিবার ক্ষমতায় ছিল। প্রথমে দেশ শাসন করেন বাশার আল-আসাদের বাবা হাফেজ আল-আসাদ। তার মৃত্যুর পর ২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট হন বাশার আল-আসাদ।

২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে সিরিয়াতেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নেয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ।

প্রায় ১৩ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। আরও বহু মানুষ আহত হন। কয়েক মিলিয়ন মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

তাদের অনেকেই লেবানন, জর্ডান, তুরস্ক ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ 

আসাদ পরিবারের দীর্ঘ শাসনামলে সিরিয়ার বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকেও কাজে লাগানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। 

আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন নেতৃত্ব সিরিয়ার সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে ঘিরে সহিংসতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন সিরিয়ায় বিচারের বড় পরীক্ষা

বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে এই মৃত্যুদণ্ড শুধু একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের বিচার নয়। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের জন্য সাবেক সরকারের কতটা জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়, সেটিও এর মাধ্যমে সামনে এসেছে।  

আসাদ পরিবারের দীর্ঘ শাসনের পর সিরিয়া এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে সাবেক সরকারের অপরাধের বিচার, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার এবং দেশের সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ 


  বিষয়:   সিরিয়া  সাবেক প্রেসিডেন্ট  বাসার আল আসাদ  মৃত্যুদণ্ড 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: