ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ নতুন ধরনের রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক সরঞ্জামের বিশাল মজুদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি-নিয়া। আরও সরঞ্জাম প্রস্তুতের কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামি-নিয়া বলেন, ‘চলমান যুদ্ধ ইরান মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং শত্রুর দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা কাজে লাগানোর উপায় খুঁজে বের করেছে। শত্রুর মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর আত্মবিশ্বাসও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
‘যুদ্ধ চলাকালে প্রতিদিন আমাদের সরঞ্জামের উৎপাদন অব্যাহত ছিল এবং বর্তমানেও তা পুরোদমে চলছে। সেনাবাহিনীর কাছে বর্তমানে সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামের বিশাল মজুদ রয়েছে এবং সামরিক সরঞ্জামের দিক থেকে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে নতুন সমরাস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার করা শুরু করেছে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কিছু কৌশলগত সামরিক সরঞ্জাম উপযুক্ত ও সঠিক সময়ে উন্মোচন করা হবে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দুই দশক ধরে বিরোধ চলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন বাহিনীর হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। ফেব্রুয়ারি মাসে এই যুদ্ধ চলার পর দুবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে দুই পক্ষ এবং দুবারই তা ভঙ্গ করেছে।
সর্বশেষ আগস্টে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
সেই থেকে আপাতত বন্ধ আছে পরস্পরের দিকে লক্ষ্য করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ