সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের রাজনৈতিক উত্থান হয়েছিল বাবার হাত ধরে। ২০০০ সালে বাবা হাফিজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দেশের প্রেসিডেন্ট হন তিনি। এরপর প্রায় ২৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালে বিদ্রোহীদের হাতে পতন ঘটে তার সরকারের। শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে হয় তাকে।
বাশারের ক্ষমতায় আসার গল্পটা অবশ্য শুরু হয়েছিল আকস্মিকভাবে। তার বড় ভাই বাসেল আল-আসাদ ছিলেন হাফিজের সম্ভাব্য উত্তরসূরি। কিন্তু ১৯৯৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বাসেলের মৃত্যু হলে রাজনীতির বাইরে থাকা বাশারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন তিনি লন্ডনে চক্ষুবিজ্ঞানে উচ্চতর পড়াশোনা করছিলেন। দেশে ফিরে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন তিনি।
২০০০ সালে হাফিজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর বাশার প্রেসিডেন্ট হন। শুরুতে তাকে আধুনিক ও সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে দেখা হয়েছিল। প্রশাসনিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং কিছু রাজনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নেন তিনি। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ এই প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত জীবনযাপনও অনেকের কাছে আকর্ষণীয় ছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যায় তার শাসনের ধরন। বিরোধী মত দমন, রাজনৈতিক কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের গ্রেফতার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে সিরিয়ার দেরা শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভ দমনে সরকারি বাহিনীর কঠোর অভিযান আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে বিরোধীরা অস্ত্র হাতে নিলে শুরু হয় ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ।
১৩ বছরের সংঘাতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হিসাবে উঠে এসেছে। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বাশার।
এই যুদ্ধে বাশারের পাশে ছিল রাশিয়া, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সহায়তা দেয় আঞ্চলিক ও পশ্চিমা শক্তিগুলো।
২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীরা দ্রুত আলেপ্পো, হামা ও হোমসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর রাজধানী দামেস্কের পতন হলে দুই যুগের শাসনের অবসান ঘটে। ক্ষমতা ধরে রাখতে দীর্ঘ লড়াই করা বাশার শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজে করে সিরিয়া ছাড়েন। রাশিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আল-আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের এক অধ্যায়।
সময়ের আলো/এমকে