ইসরায়েলের উদ্দেশে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত করার কথিত চেষ্টার পেছনে এখনও কোনো উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের যে কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন, তিনি একাই হামলাটি চালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। বিমানে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। হামলার সময় আহত ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী হামলাকারীকে কাবু করেন। পরে বিমানে থাকা অতিরিক্ত ক্রুর সদস্যরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামলাকারীকে সৌদি আরবে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, পরে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
ইসরায়েলের দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে মনে হচ্ছে কো-পাইলট একাই এই হামলা চালিয়েছেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে।
ইউএইতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলি রয়টার্সকে বলেন, এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো খুব তাড়াতাড়ি। হামলার উদ্দেশ্যও এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। ইসরায়েলের আরেক কর্মকর্তা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা তদন্ত-সংক্রান্ত সব তথ্য পাচ্ছে না। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতও ঘটনাটি তদন্ত করছে।
৩০ সেকেন্ডে ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বিমান
হামলার সময় বিমানটি সৌদি আরবের আকাশসীমার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল তদন্তটি অনুসরণ করবে এবং প্রয়োজনে এতে অংশও নিতে পারে।
হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। হামলাকারীর কোনো সহযোগী ছিল কি না, তার পেছনে অন্য কেউ ছিল কি না এবং ইরান জড়িত ছিল কি না— তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের জড়িত থাকার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। দেশটির দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তাও বলেছেন, এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করা যায়নি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বুধবার বলেছিলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কো-পাইলট বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সম্ভাব্য সন্ত্রাসী যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে ইউএই
সংযুক্ত আরব আমিরাতও ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হামলার পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের পাশাপাশি এটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না এবং আগে থেকে এর কোনো পরিকল্পনা বা নির্দেশনা ছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
বিমানটি ইউএইতে নিবন্ধিত এবং দেশটির পতাকাবাহী হওয়ায় তদন্তের আইনি এখতিয়ার ইউএইর বিচার বিভাগের রয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানের ভেতরে কোনো অপরাধ দেশের বাইরে সংঘটিত হলেও ইউএইর আইন সেখানে প্রযোজ্য।
বুধবার ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা হামলাকারীকে ওমানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে ওমানি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সৌদি আরবও তাদের তদন্ত নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত হওয়ায় উভয় পাইলটকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। একই সঙ্গে তারা ‘অকাল অনুমান’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ক্যাপ্টেনকে বীর হিসেবে প্রশংসা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফ্লাইটটির ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারকে বীর হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
ভারতের ইউএই কনস্যুলেট জানিয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রদূত ক্যাপ্টেন মাচ্চারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ও সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে তাদের অবহিত করেছেন।
নেতানিয়াহু বলেন, অন্য পাইলট সম্ভবত মাচ্চারকে ছুরিকাঘাত অথবা কুঠার দিয়ে আঘাত করেছিলেন। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
হামলাকারীকে কাবু করতে সহায়তা করা যাত্রীদেরও প্রশংসা করেছে ইসরায়েল।
তাদের একজন ইয়ানিভ হায়ুন বলেন, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সময় তিনি ককপিটের দিকে ছুটে যান। হামলাকারীকে ককপিট থেকে বের করে আনার পর তারা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং তিনি স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ টেনে বিমানটিকে কিছুটা সোজা করেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ