দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ককপিটে পাইলটদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিমানটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এ সময় বিমানের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সহকারী পাইলট বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের দাবি, যাত্রী ও ক্রুরা ওই সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলট বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান। ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন ও অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সহকারী পাইলটের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন। তার উদ্দেশ্য বা হামলার কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও গঠন করা হয়নি।
সহকর্মীর দাবি
ইসরায়েলের চ্যানেল ১৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফ্লাইদুবাইয়ের এক সহকর্মী পাইলট দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত কট্টর ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পাইলট প্রায় আট মাস আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।
সহকর্মীর দাবি, তিনি দিনের বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত নামাজ পড়তেন এবং নারীদের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানাতেন। তবে এসব তথ্য তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ওমানি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন
অভিযুক্ত পাইলট ওমানের নাগরিক বলে বিভিন্ন ইসরায়েলি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশটির বিমান চলাচলবিষয়ক নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন—ফ্লাইদুবাইয়ের ওই সহকারী পাইলটকে ইসরায়েলে বিমান অবতরণের অনুমতি দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো বিমান চলাচল চুক্তি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে।
ইসরায়েল ও ওমানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত পাইলটের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকতে পারে। তার বিমান পরিচালনার অনুমতির ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কী ঘটেছিল বিমানে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। ককপিটে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
বিমানটি দুটি জরুরি সংকেত পাঠায়। এর মধ্যে ‘৭৫০০’ কোডটি সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাবি, নিজের রক্তে ভেজা অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজার লক খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরবর্তীতে বিমানে থাকা অন্য দুই ফ্লাইদুবাই পাইলট পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, অভিযুক্ত পাইলটের উদ্দেশ্য এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে তদন্তকারীরা বিমানের ব্ল্যাক বক্সের তথ্য ও যাত্রীদের ধারণ করা ভিডিও সংগ্রহ করছেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ