মহররম মাসের ১০ তারিখ, যা ‘আশুরা’ নামে পরিচিত, মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদার একটি দিন। ইসলামের ইতিহাসে এই দিন নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। ফেরাউনের জুলুম থেকে হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের মুক্তি এবং কারবালার প্রান্তরে হজরত হোসেন (রা.)-এর শাহাদাত মুসলমানদের হৃদয়ে আশুরার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই দিনটি বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা গভীর শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্য ও আত্মত্যাগের চেতনায় স্মরণ করে।
তবে আশুরাকে ঘিরে সমাজে কিছু প্রচলিত ধারণাও রয়েছে, যেগুলোর ধর্মীয় ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো— মহররমের দশম দিনেই বা কোনো এক আশুরার দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আলোচনা ও লোকমুখে প্রচারিত হওয়ার কারণে অনেক মানুষের মনে এটি দৃঢ় বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের আলোকে বিচার করলে, এই ধারণার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, নবীজি (সা.) থেকে এমন কোনো সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়নি, যেখানে বলা হয়েছে যে আশুরার দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে। নির্ভরযোগ্য হাদিসের গ্রন্থগুলোতেও এ ধরনের কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।
ইসলামে কেয়ামতের সময় সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছেই রয়েছে। কিছু হাদিসে জুমার দিনে কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তা মহররমের দশম তারিখের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। সুতরাং আশুরার দিনেই কেয়ামত হবে— এ ধারণা ইসলামের প্রামাণ্য উৎস দ্বারা সমর্থিত নয়। মুসলমানদের উচিত ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত কথার পরিবর্তে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ জ্ঞান অনুসরণ করা।
সময়ের আলো/এসএকে