প্রথমবারের মতো তিন দেশে চলছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট বিশ্বকাপ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ৪৮ দেশের মধ্যে চলছে ধুন্ধুমার লড়াই। কিন্তু মেগা টুর্নামেন্ট চলাকালীনই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ল একটি দেশ। অভিযোগ, সেদেশের ফুটবল প্রশাসনে নিয়মবিরুদ্ধভাবে হস্তক্ষেপ করেছে সরকার। নাক গলাচ্ছে তৃতীয় পক্ষও। সেকারণে বিশ্বকাপ চলাকালীনই নেপালের ফুটবল ফেডারেশনকে নিষিদ্ধ করা হল।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৭৫ নম্বরে রয়েছে নেপাল। দেশটির নারী দলের র্যাঙ্কিং ৮৮তম। সর্বনেপাল ফুটবল এসোসিয়েশন (এএনএফএ)-কে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফা জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেশটির ফুটবলের পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে এএনএফএ এবং ক্রীড়া প্রশাসনের সর্বোচ্চ সংস্থা নেপাল ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের মধ্যে চলমান বিরোধের কথাও উল্লেখ করেছে।
ফিফার মতে, একটি জাতীয় ফুটবল এসোসিয়েশনকে সরকারি সংস্থার হস্তক্ষেপমুক্ত ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হবে। ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম এক চিঠিতে বলেছেন, ফিফার আইন গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের কারণে এএনএফএকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
এর আগে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল এএনএফএকে তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিল। ঐ সময় সংস্থাটি এমন একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যা ফিফা এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) অনুমোদন করেছিল। পরে মে মাসে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
এএনএফএর মুখপাত্র সুরেশ শাহ এ সম্পর্কে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ফিফার এই স্থগিতাদেশ অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। নেপালের ফুটবলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি।
এই স্থগিতাদেশের ফলে নেপাল আর কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। এছাড়া এএনএফএ ফিফার উন্নয়ন কর্মসূচি, কোর্স ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকেও বঞ্চিত হবে।
ফিফা জানিয়েছে, যদি ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল মার্চ মাসের সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার করে এবং এএনএফএ’কে তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়, তাহলে এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ