সেপ্টেম্বরে চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ২৪ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। দক্ষিণ আফ্রিকান প্রধান কোচ জাইলস বোনেটের তত্ত্বাবধানে এই তরুণ দলটি এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
ঘোষিত দলে তিনজন গোলরক্ষক, আটজন ডিফেন্ডার, ছয়জন মিডফিল্ডার ও সাতজন ফরোয়ার্ড রয়েছেন। অনূর্ধ্ব-২০ জুনিয়র এশিয়া কাপ বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিযোগিতার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে অনূর্ধ্ব-২১ জুনিয়র হকি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের সমীকরণ। তাই শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্যেই তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপের আগে দলকে প্রস্তুত করতে গতকাল সিনিয়র জাতীয় দলের বিপক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক ম্যাচও খেলে বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-২০ দল। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে সিনিয়র জাতীয় দল ৪-৩ ব্যবধানে জয়লাভ করে। ম্যাচ শেষে অনূর্ধ্ব-২০ দলের হেড কোচ জাইলস বোনেট দলের সামগ্রিক অগ্রগতি ও খেলার কাঠামো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
কোচ জানান, খেলোয়াড়রা তাদের দায়িত্ব বুঝতে পারছে এবং দলের কাউন্টার-অ্যাটাকগুলো বেশ ভালো ছিল। ডেটা অনুযায়ী গতকাল প্রতিপক্ষের চেয়ে অনূর্ধ্ব-২০ দলের সার্কেল এন্ট্রি বেশি ছিল এবং গোল শটের সংখ্যাও ছিল সমান। তবে এই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে আরও গোল করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যৎ উন্নতির জায়গা হিসেবে কোচ জাইলস পেনাল্টি কর্নার এবং সার্কেল ফিনিশিংয়ের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপশি বেশ কিছু সাধারণ ভুল, বল টার্নওভার এবং সার্কেলের টপ পজিশনে প্রতিপক্ষকে গোল শটের সুযোগ দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে দ্রুত উন্নতি করার তাগিদ দেন।
কোচ বলেন, ‘দলের বর্তমান কাঠামো আমাদের আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। এটি প্রতিপক্ষকে মাঝমাঠ দিয়ে বল নিয়ে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে এবং তাদের বাইরে খেলতে বাধ্য করছে। আমরা সঠিক পথেই আছি এবং দল প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দেখাচ্ছে। তবে আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনও অনেক কাজ বাকি।’
বাংলাদেশ হকি দল
গোলরক্ষক : মো. মাহমুদ হাসান, মো. রায়হানুল ইসলাম ও মো. মেহেদী হাসান জিন্নাত। ডিফেন্ডার : মো. মেহেদী, মো. মুন্না ইসলাম, সুমন্ত চাকমা, মো. সাব্বির রহমান, মো. অমিত হাসান, মো. শামীম আহমেদ, মো. তারেক ইসলাম ও মো. তৈয়ব আলী। মিডফিল্ডার : মো. তানভীর রহমান সিয়াম, মো. সোহরাব হোসেন সোটন, মো. আশরাফুল আলম, মো. শিমুল ইসলাম, মো. সাব্বির হোসেন কনক ও মো. বিশাল আহমেদ। ফরোয়ার্ড : মো. জনি ইসলাম, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. আব্দুল্লাহ, মো. মাহাদী হাসান, মো. দ্বীন ইসলাম, মো. রিফাত ও মো. তাওসান হোসেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও