সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো নারী ও শিশু নির্যাতনকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না এবং তাদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের ‘সমাজের শত্রু’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে দিনাজপুর মিউনিসিপাল হাইস্কুল প্রাঙ্গণে মা ও শিশুর সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অতিদরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন ভাতা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যে জাতি নারীকে সম্মান দিতে জানে না, সে জাতি সভ্য নয়। যে জাতি শিশুদের অধিকার নিয়ে বড় হতে দেয় না, সে জাতি ভালো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে না। নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকার সোচ্চার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু দিনাজপুর নয়, সারা দেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিশুরা যেন সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে এবং কোনো নির্যাতন বা অন্যায়ের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে।
গর্ভবতী মায়েরা যাতে সরকারের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্ট দফতরকে সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবতী মায়েরা প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। আগামী জুলাই থেকে এটি বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হবে। মায়েরা টানা তিন বছর পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসাসেবায় যেন ঢাকামুখী হতে না হয়, সেজন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সর্বাধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় রূপান্তর করতে যা যা করা প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে তার সবই করা হবে।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন এবং মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মোরশেদ আলী খান।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস এনরোলমেন্ট ক্যাম্পেইন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ