২০২৬ বিশ্বকাপে একদিকে যেমন দেখা যাচ্ছে গোলরক্ষকদের অসাধারণ সব সেভ, অন্যদিকে তুলনামূলক সহজ কিছু শটও ঢুকে যাচ্ছে জালে। ফলে নতুন অফিসিয়াল বল 'ট্রিওন্ডা'-ই কি গোলরক্ষকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে প্রশ্ন উঠছে।
গ্রুপ পর্বে ইতোমধ্যে স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। কুরাসাওয়ের এলয় রুম এক ম্যাচে ১৫টি সেভ করে রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।
এদিকে আবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে একের পর এক সেভ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইরানের আলিরেজা বেইরানভান্দ। তবে একই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড, সেনেগালের এডোয়ার্ড মেন্ডি এবং আলজেরিয়ার লুকা জিদানের মতো অভিজ্ঞ গোলরক্ষকদের হাত ছুঁয়ে বল জালে ঢুকে যাওয়ার ঘটনাও বারবার দেখা গেছে।
এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট। তার মতে, বিশ্বকাপে অস্বাভাবিক সংখ্যক এমন গোল হওয়ার পেছনে নতুন বলের বৈশিষ্ট্যের প্রভাব থাকতে পারে।
এই মতের সঙ্গে একমত সাবেক ডেনমার্ক গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মিচেলও। তার ভাষ্য, নতুন বল ট্রিওন্ডায় মাত্র চারটি প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে কোনো সেলাই নেই।
ফলে বল বাতাসে কম প্রতিরোধের মুখে পড়ে, আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায় এবং গোলরক্ষকদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়ও কমে যায়।
পরিসংখ্যানও এই আলোচনাকে জোরালো করছে। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বক্সের বাইরে থেকে ২০টি গোল হয়েছে, যা ২০২২ বিশ্বকাপের পুরো গ্রুপ পর্বের তুলনায় দ্বিগুণ। এছাড়া, গোলরক্ষকদের ভুল থেকে গোল হওয়ার ঘটনাও আগের সাতটি বিশ্বকাপের যে কোনো গ্রুপ পর্বের তুলনায় বেশি।
অবশ্য বল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস দাবি করেছে, সাড়ে তিন বছরের গবেষণা ও প্রায় ৩০০টি পরীক্ষার পর ট্রিওন্ডা তৈরি করা হয়েছে।
তাদের মতে, চার-প্যানেলের নকশা ও বিশেষ পৃষ্ঠের গঠন বলের উড্ডয়নকে আরও স্থিতিশীল করে এবং বিভিন্ন আবহাওয়াতেও সমান পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।
তবে গোলরক্ষকদের মতে, পার্থক্যটা খুবই সূক্ষ্ম হলেও সেটাই ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, ফুটবলে গোলকিপিং এমন একটি পজিশন, যেখানে সামান্য সময়ের ব্যবধান কিংবা বলের গতির ছোট পরিবর্তনও গোল বাঁচানো আর গোল হজম করার মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ