উত্তর আমেরিকার তিন দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে কোনটি সেরা— তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যেও চলছে আলোচনা। টুর্নামেন্টের আবহ, দর্শক অভিজ্ঞতা, স্থাপত্য এবং ইতিহাস বিবেচনায় বিবিসি স্পোর্টসের কয়েকজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার তাদের পছন্দের স্টেডিয়ামগুলোর কথা তুলে ধরেছেন।
ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে সবার আগে এসেছে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়াম। বিবিসির জ্যেষ্ঠ ধারাভাষ্যকার জন মারের মতে, ফুটবল ইতিহাসের বহু অবিস্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী এই ভেন্যু সংস্কারের পরও তার ঐতিহ্য ও আবেগ অক্ষুণ্ন রেখেছে। বিশেষ করে মেক্সিকান সমর্থকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি এটিকে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় স্টেডিয়ামে পরিণত করেছে।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বিচারে ডালাস স্টেডিয়ামকে এগিয়ে রেখেছেন বিবিসির প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টি ও উপস্থাপিকা কেলি সোমারস। তাদের মতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, বিশাল ছাদ এবং উন্নত সাউন্ড সিস্টেম দর্শকদের জন্য আরামদায়ক ও উপভোগ্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে, পরিবেশ ও নকশার জন্য বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড। ধারাভাষ্যকার ভিকি স্পার্কস ও প্রতিবেদক গ্যারি রোজের ভাষ্য, স্টেডিয়ামটির গঠন এমনভাবে তৈরি যে দর্শকদের উল্লাস পুরো মাঠজুড়ে তীব্র প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করে। পাশাপাশি শহরের মনোমুগ্ধকর স্কাইলাইন ও আশপাশের সৌন্দর্য এই ভেন্যুকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এছাড়া নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের বিশাল পরিসর এবং আটলান্টা স্টেডিয়ামের আধুনিক স্থাপত্যও সাংবাদিকদের নজর কেড়েছে। সাংবাদিক ইয়ান ডেনিসের মতে, এই দুটি স্টেডিয়াম দর্শকদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা উপহার দিচ্ছে। আর ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের ‘টেইলগেটিং’ সংস্কৃতি, যেখানে ম্যাচ শুরুর আগে সমর্থকেরা একসঙ্গে খাবার ও উৎসবে অংশ নেন, সেটিও বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
তবে সব স্টেডিয়ামই যে নিখুঁত, তা নয়। বস্টন স্টেডিয়াম নিয়ে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ, আধুনিক সুবিধা থাকলেও দিকনির্দেশনা ও দর্শকদের চলাচল ব্যবস্থায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলো শুধু ম্যাচ আয়োজনের ভেন্যু নয়, বরং ইতিহাস, আধুনিক প্রযুক্তি, স্থাপত্যশৈলী এবং দর্শক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ