রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জাপানের সাথে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সুইডেন। এই ড্রয়ের ফলে দুই দলই চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্ব (শেষ ৩২) নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের ৬২ মিনিটে অ্যান্টনি এলেঙ্গার চোখধাঁধানো কার্লিং শটে সমতায় ফিরে মূল্যবান ১টি পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় সুইডিশরা।
‘গ্রুপ এফ’-এর এই সমীকরণে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করল জাপান। শেষ ৩২-এর মহারণে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অন্যদিকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা আটটি ‘তৃতীয় স্থান অধিকারী’ দলের একটি হিসেবে তাদের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ ম্যাড়মেড়ে। দুই দলই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলায় প্রথমার্ধের একদম শেষ মুহূর্তের আগে গোলের তেমন কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে জাপানের উইঙ্গার কেইতো নাকামুরা গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। দাইজেন মায়েদার পাস থেকে নাকামুরার নেওয়া মাটি ঘেঁষা শটটি সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম চমৎকার ডাইভ দিয়ে বাঁ পোস্টের কোণ ঘেঁষে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সুইডেনের ভিক্টর গিওকেরেস জাপানের ডি-বক্সে ঢুকে শট নিলেও শোগো তানিগুচির পায়ে লেগে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে কোচ হাজিমে মরিয়াসুর শিষ্যরা। বিন্দুমাত্র রক্ষণাত্মক না খেলে জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে তারা। ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৫৬ মিনিটেই আসে কাঙ্ক্ষিত সেই গোল। রিটসু ডোয়ানের তৈরি করা এক নান্দনিক দলীয় আক্রমণ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন দাইজেন মায়েদা। ডান প্রান্ত থেকে কাট-ইন করে ভেতরে ঢোকার সময় আয়াসে উয়েদার সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান পাস খেলে বল পান ডোয়ান। এরপর সুইডিশ সেন্টার ব্যাকদের ফাঁকি দিয়ে তিনি নিখুঁত এক পাস বাড়ান ডি-বক্সে আনমার্কড থাকা মায়েদার উদ্দেশ্যে। চলন্ত চিলতে বলে আলতো ছোঁয়ায় জাল কাঁপাতে ভুল করেননি মায়েদা।
জাপানের এই লিড অবশ্য স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ছয় মিনিট। ৬২ মিনিটে সুইডেনের হয়ে সমতা ফেরান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক উইঙ্গার অ্যান্টনি এলেঙ্গা। ডি-বক্সের কোণ থেকে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জাপানি রক্ষণভাগের ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। জাপানের গোলরক্ষক জায়ন সুজুকি বলের লাইনে থাকলেও দেখার সুযোগ পাননি। ম্যাচের শেষ দিকে সুইডেন তাদের আক্রমণের ধার বাড়ালেও জাপানি গোলরক্ষক সুজুকি প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান। ৬৫ মিনিটে আলেকজান্ডার ইসাকের একটি নিশ্চিত গোলের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন তিনি। এরপর ম্যাচের অতিরিক্ত সময়েও (ইনজুরি টাইম) ইসাকের জোরালো হেড দারুণ দক্ষতায় তালুবন্দী করে জাপানের দ্বিতীয় স্থান অক্ষুণ্ন রাখেন এই গোলরক্ষক।
সময়ের আলো/কহু