বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়মিত না হলেও বড় আসরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে জানে প্যারাগুয়ে। শেষ ৪০ বছরে এটি তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। আর গত পাঁচ আসরের মধ্যে চারবারই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার দলটি।
শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় সানফ্রান্সিসকোয় মুখোমুখি হয়েছে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। জয় পেলেই নিশ্চিত হবে নকআউট পর্বের টিকিট।
এবারের টুর্নামেন্টে দুই দলই প্রায় একই পথ পাড়ি দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে উভয় দলই তুরস্ককে হারিয়েছে এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরাজিত হয়েছে। ফলে দুই ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার সমান ৩ পয়েন্ট।
পরিসংখ্যানও বলছে, দুই দলের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ২৬তম, আর প্যারাগুয়ে রয়েছে ৩৭ নম্বরে। এদিকে গ্রুপের স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই নকআউট নিশ্চিত করেছে, আর তুরস্ক বিদায় নিয়েছে। ফলে শেষ ষোলোয় ওঠার একটি টিকিটের জন্য সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া।
ড্র হলেও দুই দলের নকআউটের আশা পুরোপুরি শেষ হবে না। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় বিপাকে পড়তে পারে প্যারাগুয়ে। তাই তাদের জন্য আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার বিকল্প নেই। কিন্তু সেখানেই বড় চ্যালেঞ্জ ‘আলবি রোজা’দের। রক্ষণে দৃঢ় হলেও ফিনিশিংয়ে খুব একটা কার্যকর নয় দলটি।
এর ওপর বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে দলের অন্যতম ভরসা মিগুয়েল আলমিরনের অনুপস্থিতি। তুরস্কের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন এই আক্রমণভাগের তারকা, ফলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে পাচ্ছে না প্যারাগুয়ে।
তবে এই প্রতিকূলতার মাঝেও আশাবাদী প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো। দেশের শিশু-কিশোরদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই নকআউট নিশ্চিত করতে চান তিনি।
আলফারো বলেন, ‘সম্ভবত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে মাঠে আমাদের সমর্থকই সবচেয়ে কম। কারণ, বিশ্বকাপ এখন অনেকটাই এলিটদের টুর্নামেন্ট। আমাদের দেশের অনেক মানুষের এখানে আসার সামর্থ্য নেই। তবে প্যারাগুয়ের রাস্তায় ফুটবল খেলা শিশুদের আমি বলতে চাই, আমরা যদি একসঙ্গে থাকি, তাহলে অন্যদের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারি।’
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও রক্ষণভিত্তিক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। তবে উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগিয়ে সেট পিস ও ক্রস থেকে তারা বেশ কার্যকর। প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে তাদের সবচেয়ে বড় আলোচনা তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্তর ইরানকুন্দাকে নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শুরুর একাদশে না থাকলেও তুরস্কের বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে দ্রুত গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে তাকে প্রথম একাদশে রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি অস্ট্রেলিয়ার কোচ।
তিনি বলেন, ‘শুরুর একাদশ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।’
দলের মিডফিল্ডার ওকন এংকসলাও একই সুরে বলেন, ‘শুধু প্রতিভা দেখেই একাদশ নির্বাচন করা হয় না। একজন ফুটবলারের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, পাশাপাশি কৌশলগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়।’
সানফ্রান্সিসকোর এই লড়াই তাই শুধু দুটি দলের নকআউটের স্বপ্নপূরণের ম্যাচ নয়, বরং দুই ভিন্ন ফুটবল বাস্তবতারও এক মহারণ—যেখানে জয় মানেই বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করা।
সময়ের আলো/এসএকে