মালদ্বীপে বাংলাদেশের অলিম্পিক দলের ম্যাচে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বড় শাস্তি পেলেন ফরোয়ার্ড আল আমিন। গত ৭ জুন ডায়মন্ড জুবিলি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। একই ঘটনায় মিরাজুল ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুই ম্যাচ।
বাফুফের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ফিফার সিদ্ধান্তের চিঠি ফেডারেশনে পৌঁছেছে। তবে আল আমিনকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে নিজেও বিস্মিত তিনি। শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ অবশ্য রয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি শুধু একটি নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টে সীমাবদ্ধ নয়। বাফুফের অধীনে সিনিয়র জাতীয় দলের অফিসিয়াল ম্যাচ এবং ফিফা টায়ার-১ ফ্রেন্ডলিতেও এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ বছরে সাধারণত ছয় থেকে আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলায় ১৫ ম্যাচের শাস্তি কার্যকর হলে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হতে পারে আল আমিনকে।
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে। বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদ ও মালদ্বীপের হাসান ইনাজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা আপত্তি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মিরাজুল ও আল আমিন লাল কার্ড দেখেন। আল আমিন লাল কার্ডের পর রেফারিকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দুই দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়। ঘটনার পর বাফুফে তদন্ত কমিটি গঠন করে। ফিফাও বিষয়টি আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে। এর আগে ম্যানেজার ও মিরাজুলকে আর্থিক শাস্তি দেওয়া হলেও আল আমিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
আল আমিনের জন্য শাস্তিটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার ক্যারিয়ারের প্রেক্ষাপটে। এর আগে ২০২০-২১ মৌসুমে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হয়ে খেলার সময় ম্যাচ ফিক্সিং-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে এক বছর মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তার ক্যারিয়ারে নতুন বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল। বাংলাদেশের ফুটবলে এত বড় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার নজিরও খুব বেশি নেই। ১৯৮৯ সালের সাফ গেমসে রেফারিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তৎকালীন অধিনায়ক ইলিয়াস হোসেন এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।
এদিকে মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ফিফা কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পরিষ্কার তথ্য পায়নি বাফুফে। অন্যদিকে আল আমিনের শাস্তির সিদ্ধান্তের পর নিজেদের তদন্ত প্রতিবেদনও নতুন করে পর্যালোচনা করছে ফেডারেশন। এখন মূল প্রশ্ন, ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বাফুফে আপিল করবে কি না।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি